পল্টনে চলন্ত রিকশায় ঢাবি শিক্ষার্থীর কানের দুল ছিনতাই, লতি ছিঁড়ে জখম
রাজধানীর পল্টন মোড়ে এক ভয়াবহ ছিনতাই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক মাস্টার্স শিক্ষার্থী গুরুতর জখম হয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে ছিনতাইকারী চলন্ত রিকশায় বসা শিক্ষার্থীর কানের দুল হ্যাঁচকা টান দিয়ে ছিনিয়ে নেয়। এতে তার কানের লতি ছিঁড়ে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।
ছিনতাইয়ের বিস্তারিত বিবরণ
আহত শিক্ষার্থী সোহানা জামান (২৫) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং তার গ্রামের বাড়ি যশোরের চৌগাছা উপজেলার হুগুলডাঙ্গা গ্রামে। তিনি জানান, রাতে কমলাপুর থেকে রিকশাযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের দিকে যাচ্ছিলেন। রিকশাটি পল্টন মোড় অতিক্রম করার সময় পেছন থেকে এক ছিনতাইকারী আকস্মিকভাবে তার বাম কানের দুলে জোরে টান দেয়। এই হ্যাঁচকা টানের ফলে কানের লতি ছিঁড়ে যায় এবং দুলটি নিয়ে ছিনতাইকারী দ্রুত পালিয়ে যায়।
সোহানা জামান রক্তাক্ত ও ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন। তিনি নিজেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসার জন্য আবেদন করেন। এই ঘটনায় তার শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
চিকিৎসা ও পুলিশি ব্যবস্থা
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের ৩০৩ নম্বর ওয়ার্ডে সোহানা জামান প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসা শেষে রাতেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। তবে, তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ এই ছিনতাই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ছিনতাইকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এই ধরনের ঘটনা রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন তুলেছে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রাতের বেলা চলাচলের সময় ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত।
সোহানা জামানের মতো নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে। এই ঘটনা শহুরে অপরাধের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা সামাজিক সচেতনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা বাড়াচ্ছে।
