ক্যানসার হাসপাতালের উপপরিচালকের ওপর হামলায় র্যাবের গ্রেপ্তার পাঁচ, টেন্ডার বিরোধের জের
র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হাসপাতালের বিভিন্ন কাজের টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও অভিযানের বিস্তারিত
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযানে নেমে গতকাল রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত শরিফুল আলম ওরফে করিমসহ আমিনুল ইসলাম (কালু), সাজ্জাদ (বদি), সালাউদ্দিন ও আরিফুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গতকাল সোমবার বিকেলে দায়িত্ব শেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পথে হামলার শিকার হন ডা. আহমদ হোসেন।
হামলার সময় ও স্থানের বিবরণ
বিকেল চারটার দিকে ডা. আহমদ হোসেন মহাখালীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ক্যাম্পাসের পেছনের একটি গলি দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় দুই থেকে তিনজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর হাত ও পিঠে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
টেন্ডার বিরোধের পটভূমি ও হামলার পরিকল্পনা
র্যাবের কর্মকর্তা আরও বলেন, একটি কাজের দরপত্রকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ থেকেই এ হামলার সূত্রপাত। এর মধ্যে একটি পক্ষ হচ্ছে ‘রুবেলের ইএমই ট্রেডার্স’; অন্য পক্ষ হচ্ছে ‘মোনায়েম গ্রুপ’। ইমএম ট্রেডার্সের রুবেল এখন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ করে হামলা চালানো হয়। রুবেল নামের ওই ব্যক্তি এ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। তাঁর নির্দেশে দেশে অবস্থানকারী শরিফুল আলম করিমসহ কয়েকজন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যুক্ত ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে এ হামলা হয়।
অন্যান্য জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা
এ ঘটনায় আরও যাঁরা জড়িত আছেন, তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে র্যাব জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখব এবং আইনের আওতায় সকল দোষীদের বিচার নিশ্চিত করব।”
এই ঘটনা ঢাকার অপরাধ পরিস্থিতির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে চিকিৎসকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবীদের ওপর হামলা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছাচ্ছে। র্যাবের দ্রুত অভিযান ও গ্রেপ্তার এই ধরনের অপরাধ দমনে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



