সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা শেরপুর সদর হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনার কথা সংসদে তুলে ধরেছেন। রোববার (৭ জুন) সংসদের বৈঠকে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘যে হাসপাতালের মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা, সেই হাসপাতাল আজ নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে।’
শেরপুরের ১৭ লাখ মানুষের ভরসা সদর হাসপাতাল
ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেন, শেরপুরের ১৭ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা সদর হাসপাতালের করুন বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরতে মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়েছি। শেরপুর সদরের চরাঞ্চলের অধিকাংশ রাস্তাই বর্তমানে কাঁচা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যখন একজন অসুস্থ ব্যক্তি, একজন মুমূর্ষু রোগী কিংবা গর্ভবতী মা জীবন বাঁচানোর শেষ আশায় শেরপুর সদর হাসপাতালে এসে হাসপাতালের বেড না পেয়ে মেঝে, বারান্দা কিংবা করিডোরে দিনের পর দিন কাতরাতে থাকে। বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
জনবল ও অবকাঠামোর সংকট
সানসিলা জেবরিন বলেন, হাসপাতালে সিনিয়র কনসাল্ট্যান্টের ১০টি পদই শূন্য। সেখানে প্রতিদিন ৭০০ রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খায় চিকিৎসক, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক নেই। ৯তলা ভবন থাকলেও রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত লিফট নেই।
অকেজো আইসিইউ-সিসিইউ ইউনিট
তিনি আরও বলেন, করোনাকালীন সময়ে শেরপুর সদর হাসপাতালে প্রায় ১১ কোটি টাকায় একটি আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিট নির্মাণ করা হলেও জনবলের অভাবে তা অকেজো হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় ইউনিটটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে যাচ্ছে। দালাল, চোর, ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের অপরাধে পরিণত হয়েছে হাসপাতালের একটি অংশ। পাশেই ময়লার ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করে তুলছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম
২০১৮ সালের পর থেকে এই সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হয়নি। গত আট বছরে ছয়বার নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ দেওয়া হলেও কোনও এক অদৃশ্য শক্তির কারণে পরীক্ষাটি বারবার পিছিয়ে যায় বলে সংসদকে জানান তিনি।



