সবসময় পা ঠান্ডা ও অবশ হয়ে থাকা পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি (স্নায়ুর ক্ষতি) বা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের মতো গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। শীতকালে পা ঠান্ডা লাগা স্বাভাবিক হলেও গরমকালেও যদি পা ঠান্ডা থাকে, ঝিনঝিন করে কিংবা অবশ লাগে, তাহলে তা হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো গুরুতর রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। সাধারণত এটি সাময়িক সমস্যা নয়, তাই অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পা ঠান্ডা ও অবশ লাগার পেছনে কী কী কারণ থাকতে পারে?
শরীরের প্রতিটি অংশে রক্ত ঠিকমতো পৌঁছানো জরুরি। কোনো কারণে পায়ের দিকে রক্ত চলাচল কমে গেলে পা ঠান্ডা লাগতে পারে। আবার স্নায়ুর সমস্যা থাকলেও পায়ে অবশভাব বা ঝিনঝিন অনুভূতি হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকলেও এমনটি হতে পারে। কিন্তু সমস্যা বারবার হলে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
ডায়াবেটিস ও স্নায়ুর ক্ষতি
ডায়াবেটিস দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে, যাকে ডায়াবেটিস নিউরোপ্যাথি বলা হয়। এতে পায়ে ঝিনঝিন ভাব, অবশ অনুভূতি ও জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় পায়ের ক্ষতও সহজে টের পাওয়া যায় না।
রক্ত চলাচলে সমস্যা
পায়ের রক্তনালি সরু হয়ে গেলে বা রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হলে পায়ে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছায় না, ফলে পা ঠান্ডা হয়ে যায়। হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা, পায়ের ত্বকের রঙ বদলে যাওয়া বা ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া এ সমস্যার লক্ষণ।
থাইরয়েড সমস্যা
থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে সবসময় ঠান্ডা লাগা, ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি এবং হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন বি১২ ঘাটতি
ভিটামিন বি১২ স্নায়ুর সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অভাব হলে পায়ে ঝিনঝিন, অবশ ভাব, দুর্বলতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা হতে পারে।
রেনডস সিনড্রোম
এ সমস্যায় ঠান্ডা পরিবেশ বা মানসিক চাপের কারণে হাত ও পায়ের আঙুলে রক্ত চলাচল সাময়িকভাবে কমে যায়। ফলে আঙুল সাদা, নীলচে বা বেগুনি হয়ে যেতে পারে এবং অবশ লাগতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
পা সবসময় ঠান্ডা থাকে, বারবার অবশ কিংবা ঝিনঝিন লাগে, হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা হয়, পায়ের ক্ষত সহজে শুকোয় না, পায়ের ত্বকের রঙ বদলে যায় এবং পায়ে অনুভূতি কমে যায়—এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
প্রতিরোধ ও জীবনযাপনের পরামর্শ
সুস্থ থাকতে প্রতিদিন কিছুটা হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করুন। ধূমপান এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। পুষ্টিকর খাবার খান এবং ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সবসময় পরিষ্কার ও আরামদায়ক জুতা পরুন এবং পায়ের নিয়মিত যত্ন নিন।



