কাজের চাপে লাঞ্চ না করলে ডায়াবেটিস রোগীদের বড় ক্ষতি
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ কাজ নয়, কারণ সুগার ধরা পড়লেই খাওয়াদাওয়ায় কঠোর বিধিনিষেধ আসে। উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হয়, কিন্তু সময়মতো খাবার না খেলে শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মিল স্কিপ করলে বা খাবার বাদ দিলে ডায়াবেটিস রোগীদের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়, যেমন হাইপোগ্লাইসেমিয়া, যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য করণীয় নির্দেশিকা
ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্টে শুধু খাওয়াদাওয়া বা শরীরচর্চাই যথেষ্ট নয়, ওষুধের সঠিক ব্যবহারও জরুরি। জেনারেল ফিজিশিয়ান ডা. রুদ্রজিৎ পালের মতে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাবার খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সময়মতো না খেলে ওষুধ ঠিকমতো কাজ করে না। তিনি ক্যালোরি কম এমন খাবার নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
একবেলা খাবার না খেলে কী করবেন?
অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে লাঞ্চ বা ব্রেকফাস্ট স্কিপ করতে হয়। ডা. পাল বলেছেন, যদি কাজের চাপে লাঞ্চ করতে না পারেন, তাহলে ওই সময়ের ওষুধ না খেয়ে পরে খাবারের সাথে নেওয়া উচিত, তবে এটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে করতে হবে। এভাবে অপ্রত্যাশিত হাইপোগ্লাইসেমিয়া এড়ানো সম্ভব।
খাবারের ব্যবধান ও সম্ভাব্য সমস্যা
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য দুটি মিলের মাঝে সাধারণত ৩-৪ ঘণ্টার ব্যবধান রাখা যথেষ্ট, যদিও অনেকে ২ ঘণ্টা অন্তরও খান। মিল স্কিপ করলে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন কাজ বন্ধ হয়ে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে, আর টাইপ-২ ডায়াবেটিসে হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দিতে পারে, যার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও অস্বাভাবিক ঘাম।
লাঞ্চ না করলে কী ক্ষতি হয়?
ডায়াবেটিসে মিল স্কিপ করা কখনোই উচিত নয়, কারণ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া ঘটাতে পারে। আবার, লাঞ্চ না করলে পরে বেশি খাওয়ার ফলে 'রিবাউন্ড হাইপারগ্লাইসেমিয়া' হতে পারে, যেখানে সুগার লেভেল হঠাৎ বেড়ে যায়, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
প্রয়োজনীয় টিপস ও সতর্কতা
কাজের চাপে লাঞ্চ করতে দেরি হলে সঙ্গে আমন্ড বা আখরোটের মতো হালকা স্ন্যাকস রাখুন, যা প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া দরকার, এবং উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার, ভাজাপোড়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার, স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট এড়িয়ে চলা উচিত। নিয়মিত চেকআপ ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
