দেশে ছানি অন্ধত্বের ৮০% রোগীর দায়ী, সার্জন সংকটে প্রতি ৮৩৩ জনে ১ জন
দেশে ছানি অন্ধত্বের ৮০% রোগীর দায়ী, সার্জন সংকটে প্রতি ৮৩৩ জনে ১ জন

দেশে দুই চোখ অন্ধত্বের শিকার রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশের ক্ষেত্রেই দায়ী ছানি। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষের ছানি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। তবে এসব রোগীর বিপরীতে দক্ষ সার্জনের সংখ্যা অত্যন্ত কম। প্রতি ৮৩৩ জন রোগীর জন্য আছেন মাত্র একজন দক্ষ সার্জন। প্রতিবছর অস্ত্রোপচারের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন এক লাখের বেশি রোগী। মূলত সচেতনতার অভাবে এই প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব এড়ানো যাচ্ছে না। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ছানি সচেতনতা মাসের সমাপনী আলোচনা

বিশ্বব্যাপী জুন মাস ‘ছানি সচেতনতা মাস’ হিসেবে পালিত হয়। মাসব্যাপী এই কার্যক্রমের সমাপনী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্যাটার‍্যাক্ট অ্যান্ড রিফ্র্যাকটিভ সার্জনস (বিএসসিআরএস)। এ বছর সচেতনতা কার্যক্রমের প্রতিপাদ্য ছিল—‘দৃষ্টির যত্নে, ছানি মুক্তির জন্য লড়ব একসাথে’।

সভায় স্বাগত বক্তব্যে ছানি সচেতনতা মাস উদ্‌যাপন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম নজরুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও ছানিজনিত অন্ধত্বের সংখ্যা বাড়ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ অসচেতনতা। এ সময় তিনি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধান অতিথির বক্তব্য: স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমালোচনা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ছানিজনিত অন্ধত্বের হার ৩০ শতাংশ বেশি। তাঁর মতে, স্কুল পর্যায়েই শিশুদের চোখের সমস্যা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমালোচনা করে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আমরা যেভাবে সাজিয়েছি, আমি বলব যে আমরা একধরনের অপরাধ করেছি। আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রথাগতভাবে চিকিৎসাকেন্দ্রিক। রোগ হওয়ার পর আমরা গুরুত্ব দিই, কিন্তু শুরুতে চোখ বন্ধ করে থাকি।’ প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ চিহ্নিত করতে পারলে ছানিজনিত অন্ধত্ব সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সংকট

বিএসসিআরএসের সাধারণ সম্পাদক এ এস এম মঈন উদ্দীন বলেন, সচেতনতার পাশাপাশি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ক্যাটার‍্যাক্ট (ছানি) সার্জন তৈরি করতে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। মাত্র ছয়টা প্রশিক্ষণকেন্দ্র ক্যাটার‍্যাক্ট সার্জন তৈরি করছে।’

সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে মঈদ উদ্দীন আরও বলেন, ‘সবাই যদি আমরা সমন্বিত চেষ্টা না করি তাহলে এই প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব, যেটা একটা জাতীয় বোঝা, আমাদের সেখান থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।’

অর্থনৈতিক প্রভাব

ছানিজনিত অন্ধত্বের কারণে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘কতজন লোক আমাদের ওপর বোঝা হচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে কতটা পিছিয়ে দিচ্ছে, সেটা তুলে ধরা উচিত। কিন্তু আমরা সেভাবে তুলে ধরতে পারছি না।’

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি তৌহিদুর রহমান। সভা শেষে উপস্থিত রোগী, চিকিৎসক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান বিএসসিআরএসের সভাপতি অধ্যাপক শওকত কবির।