বাংলাদেশে ছানি অন্ধত্বের বোঝা: অপারেশনের অপেক্ষায় ১০ লাখ রোগী
ছানি অন্ধত্বের বোঝা: অপারেশনের অপেক্ষায় ১০ লাখ রোগী

বাংলাদেশে ছানি অন্ধত্বের বোঝা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ছানি অপারেশনের জন্য অপেক্ষা করছেন, আর প্রতি বছর এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি নতুন রোগী। মঙ্গলবার ঢাকায় এক সেমিনারে চোখের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই তথ্য জানান।

বিএসসিআরএসের সেমিনারে উদ্বেগজনক তথ্য

ছানি সচেতনতা মাস ২০২৬ (জুন) উপলক্ষে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্যাটারাক্ট অ্যান্ড রিফ্র্যাকটিভ সার্জনস (বিএসসিআরএস) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এই সেমিনারের আয়োজন করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, প্রতিবছর নতুন করে ছানি শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দেশের বার্ষিক অস্ত্রোপচার সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, ফলে চিকিৎসার ব্যবধান বাড়ছে এবং আরও বেশি মানুষ প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের ঝুঁকিতে পড়ছেন।

সার্জন সংকট বড় চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রশিক্ষিত ছানি সার্জনের অভাব অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। অস্ত্রোপচার সেবা সম্প্রসারণ ও চিকিৎসার সুযোগ না বাড়ালে ছানি-সম্পর্কিত অন্ধত্বের বোঝা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিএসসিআরএসের সাধারণ সম্পাদক এএসএম মঈন উদ্দিন জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে অপেক্ষমাণ প্রতি ৮৩৩ রোগীর জন্য একজন মাত্র যোগ্য ছানি সার্জন রয়েছেন। দেশে প্রায় ২ হাজার ২০০ চক্ষু বিশেষজ্ঞ থাকলেও মাত্র ১ হাজার ২০০ জন সক্রিয়ভাবে ছানি অপারেশন করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব দূর করতে যতজন চক্ষু সার্জন প্রয়োজন, তার মাত্র এক-চতুর্থাংশ বাংলাদেশে রয়েছে।

শিশুদের অবস্থা উদ্বেগজনক

শিশুদের প্রসঙ্গ তুলে মঈন উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৪০ হাজার শিশু অন্ধ, যাদের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার শিশুর অপারেশনযোগ্য ছানি রয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে অন্ধত্বের প্রধান কারণ ছানি, যা দ্বিপাক্ষিক অন্ধত্বের ৭৯.৬ শতাংশের জন্য দায়ী, যেখানে বৈশ্বিক গড় ৫১ শতাংশ।

সরকারের স্বাস্থ্য নীতি ও উদ্যোগ

ছানি সচেতনতা মাস উদযাপন কর্মসূচির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, বার্ষিক নতুন ছানি রোগীর সংখ্যা অস্ত্রোপচারের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনি অস্ত্রোপচার সক্ষমতা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সরকার শুধু চিকিৎসাভিত্তিক সেবার পরিবর্তে প্রতিরোধমূলক ও প্রচারমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক রোগনির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ অনেক মানুষকে দৃষ্টিশক্তি হারানো থেকে রক্ষা করতে পারে এবং সরকার ইতিমধ্যে এই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিএসসিআরএসের সভাপতি শওকত কবির। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন এবং অপথ্যালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওএসবি) সভাপতি অধ্যাপক তৌহিদুর রহমানও বক্তব্য দেন।