ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নরসিংদীতে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প
ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশনের চক্ষু ক্যাম্পে চার শতাধিক রোগী সেবা পেলেন

ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের মিয়া বাড়িতে বিনা মূল্যে চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পে চার শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।

সেবাপ্রার্থীদের অভিজ্ঞতা

সামসুন্নাহার (৬৫) নামের এক নারী জানান, কয়েক মাস ধরে তার দুই চোখ দিয়ে পানি ঝরছে এবং জ্বালাযন্ত্রণা হচ্ছে। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি বড় ভাইয়ের পরিবারে বসবাস করেন। বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পের খবর পেয়ে তিনি চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ক্যাম্পের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা

ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং ডিস্ট্রেসড চিলড্রেন অ্যান্ড ইনফ্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল (ডিসিআই) নামক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় এই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। মিয়া বাড়ির দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্রে ক্যাম্পটি পরিচালিত হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা কার্যক্রম

সরেজমিনে দেখা যায়, সেবাপ্রার্থীদের ক্রমিক নম্বর দিয়ে নির্দিষ্ট কক্ষে পাঠানো হচ্ছে। টেকনিশিয়ান ও রিফ্রেকশনিস্টরা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, এরপর চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দেন। ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে রোগীরা বিনামূল্যে ওষুধ সংগ্রহ করেন।

অংশগ্রহণকারী ও পরিদর্শন

ক্যাম্পের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন রাজধানীর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির। চিকিৎসা সেবা দেন ঢাকা প্রগ্রেসিভ লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের নরসিংদীর চিকিৎসা কর্মকর্তা ফারজানা শাহীনসহ আট সদস্যের একটি দল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা

ক্যাম্পে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম ব্যবস্থাপক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী খালিদ জামিল, ডিসিআইয়ের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক জামাল আবদুল নাসের, প্রকল্প ব্যবস্থাপক আতিকুল ইসলাম এবং এসকেএফের সহকারী বিপণন কর্মকর্তা সেলিম মিয়াজী, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. শাহাদাৎ হোসেন ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. জহুরুল হক।

রোগীর চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা

আয়োজকেরা জানান, দুই দিন আগে থেকে মাইকিং করে ক্যাম্পের খবর প্রচার করা হয়। চার শতাধিক রোগীর মধ্যে চশমার সমস্যা বেশি ছিল। এ ছাড়া মাথাব্যথা, চোখব্যথা ও চোখে পানি পড়ার সমস্যা নিয়েও অনেক রোগী আসেন। নেত্রনালির সমস্যায় আক্রান্ত রোগীও ছিলেন। ছানি পড়া ৫০ জন রোগীকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হবে।

সেবাগ্রহীতার প্রতিক্রিয়া

সালমা বেগম (৪৫) নামের এক নারী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে টাকা ছাড়াই চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়েছি। খুব উপকার হয়েছে।’

ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশনের পটভূমি

২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজান বেকারির জঙ্গি হামলায় দুই বন্ধুকে ছেড়ে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিহত হন ফারাজ আইয়াজ হোসেন। তাঁর নামে পরিবার ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশন গড়ে তোলে, যা ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। ফাউন্ডেশন বন্যাদুর্গত এলাকায় খাদ্যসহায়তা, দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদানসহ দেশব্যাপী মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।