সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও শিক্ষা বন্ধ
সিলেট মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, কর্মবিরতি ও শিক্ষা বন্ধ

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মঙ্গলবার রাতে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের শিক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে।

সংঘর্ষের সময় ও স্থান

মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভিতরে ও বাইরে এই সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আহতের সংখ্যা ও বক্তব্য

ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. আনান জানান, হামলায় ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও পাঁচজন মেডিকেল শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপর পক্ষের তিনজনও হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছে। তিনি বলেন, এই হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করবেন। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান হাসপাতাল পরিদর্শন করে কর্মবিরতি প্রত্যাহারে আলোচনা করলেও বুধবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত তা কার্যকর ছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাত ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে এক অসুস্থ শিশুর স্বজনরা তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। ডিউটিতে থাকা এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। উত্তেজনা বাড়লে অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

মেডিকেল শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, রোগীর সঙ্গে আসা লোকজন হাসপাতালের বাইরে থেকে অতিরিক্ত লোক এনে ডিউটিতে থাকা ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করে। তারা দাবি করে, অন্যান্য ইন্টার্ন ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে আসার পর সহিংসতা আরও বেড়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আহতদের তালিকা

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক তাসপিয়ানুল হক ও রেজা নিলয়, মেডিকেল শিক্ষার্থী আবরার হোসেন, শহরের বালুচর এলাকার জাহিদ এবং রোগীর কয়েকজন স্বজন। সবাই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশের ভূমিকা

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করে, তবে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। কিছু মেডিকেল শিক্ষার্থীকে অস্থিরতার সময় লাঠি বহন করতে দেখা যায়। সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মাইনুল জাকির জানান, যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসক ফোরাম রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে এক বিবৃতিতে হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানায়। ফোরাম দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সব চিকিৎসা সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে।

শিক্ষার্থীদের সমর্থন

ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ইন্টার্নদের সমর্থনে অনির্দিষ্টকালের শিক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে।