মাদারগঞ্জে সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ
মাদারগঞ্জে সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলায় সাপে কাটা এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, সময়মতো সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) না দেওয়ায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামানকে মারধর করেছেন রোগীর আত্মীয়স্বজনরা।

ঘটনার বিবরণ

হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী তারতাপাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী চানমিয়ার স্ত্রী রমিছা বেগমকে (৫৫) সোমবার রাতে সাপে দংশন করে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মাদারগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা রক্ত পরীক্ষা করে জানান, তাকে বিষধর সাপে দংশন করেনি, বরং 'চিকা' কিংবা অন্য কোনো কীটপতঙ্গ দংশন করেছে। এর কিছুক্ষণ পরে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করে। রোগীকে জামালপুর নেওয়ার পথে পৌরসভার বালিজুড়ী বাজার এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

নিহতের ছেলে লিটন মিয়া বলেন, "আমার মাকে সাপে কামড় দেওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে যাই। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়, চিকা বা অন্য কিছু কামড় দিয়েছে। কোনো অ্যান্টিভেনম দেননি। পরে মায়ের অবস্থা খারাপ হলে আবার হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাই। এ সময় আমার মাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়; কিন্তু জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে রওনা হওয়ার কয়েক মিনিট পরই আমার মা মারা যান। চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে মৃতের স্বজনরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে সোমবার রাতে ডিউটিতে থাকা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামানকে মারধর করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসকের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে রাতে কর্তব্যরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, সাপে কাটা রোগীদের সরকারি চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষধর সাপের কামড়ের লক্ষণ—যেমন চোখে ঝাপসা দেখা, ঘাড় বেঁকে যাওয়া ও অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ—পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ওই রোগীর মধ্যে এসব লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তাই তখন অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়।

তদন্ত কমিটি গঠন

এ বিষয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বে থাকা ডাক্তার আবু রায়হান জানান, সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসকদের দায়িত্বের অবহেলার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত কমিটিতে আছেন মেডিকেল কনসালটেন্ট ডা. আজিজ আহমেদ বিলাস, ডা. সালেহ মাহাদী ও ডা. নাহিদুজ্জামান উষ্ণ।