শরীরের যে অংশে ব্যথা হলে বুঝবেন কিডনি সমস্যা
শরীরের যে অংশে ব্যথা হলে বুঝবেন কিডনি সমস্যা

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বিশ্বজুড়ে কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, কিডনির সমস্যা শুরু হলে প্রথমে স্পষ্ট উপসর্গ না-ও থাকতে পারে, তবে সময়ের সঙ্গে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়।

কিডনির কাজ কী?

কিডনির প্রধান কাজ রক্ত পরিশোধন করে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মতো বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়া। এটি শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা এবং হাড় সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন করে। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

কিডনি রোগের সাধারণ লক্ষণ

  • সারাক্ষণ দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা
  • পা, গোড়ালি বা চোখের নিচে ফোলাভাব
  • প্রস্রাবের পরিমাণ, রঙ বা গন্ধে পরিবর্তন
  • ফেনাযুক্ত প্রস্রাব
  • ক্ষুধামন্দা, বমিভাব বা বমি
  • ত্বক শুষ্ক হওয়া বা চুলকানি
  • রাতে পেশিতে টান ধরা
  • ঘুমের সমস্যা বা মনোযোগ কমে যাওয়া
  • হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
  • শরীরে পানি জমলে শ্বাসকষ্ট
  • জ্বর বা ঠান্ডা লাগা, বিশেষ করে ইনফেকশনে
  • চোখ ও পায়ের পাতায় ফোলা
  • কোমর ও পিঠে ব্যথা

কিডনির ব্যথা কোথায় অনুভূত হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির ব্যথা সাধারণ কোমর ব্যথার মতো হলেও অবস্থান ও ধরনে পার্থক্য থাকে। সাধারণত পিঠের নিচের অংশে, পাঁজরের ঠিক নিচে বা কোমরের দুই পাশে এই ব্যথা অনুভূত হয়। অনেক সময় ব্যথা নিচের পেট, কুঁচকি বা উরু পর্যন্ত ছড়াতে পারে। ব্যথা হালকা চাপের মতো বা গভীর ও তীব্র হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যথার ধরন যা ইঙ্গিত দেয়

  • কিডনিতে পাথর থাকলে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে
  • কিডনিতে সংক্রমণ হলে ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়ে

প্রস্রাবে যেসব পরিবর্তন দেখা দেয়

  • ঘন ঘন প্রস্রাব বা একেবারে কমে যাওয়া
  • প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা দুর্গন্ধ
  • প্রস্রাবের রঙ লালচে বা ঘোলা হওয়া
  • প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

  • ব্যথা ১-২ দিনের বেশি স্থায়ী হলে
  • প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে
  • জ্বর বা ঠান্ডা লাগার সঙ্গে ব্যথা থাকলে

চিকিৎসকদের পরামর্শ, কিডনি রোগের উপসর্গ অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। শুরুতেই রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।