আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত একটি প্রমোদতরিতে ‘হান্তাভাইরাস’ সংক্রমণের কবলে পড়ে তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং জাহাজটির পরিচালনাকারী সংস্থা ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের ওই জাহাজটি আর্জেন্টিনা থেকে কেপ ভার্দের দিকে যাচ্ছিলো।
মৃতদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে এক ডাচ দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিক রয়েছেন। এখন পর্যন্ত দুজনের শরীরে হান্তাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার মধ্যে মারা যাওয়া ডাচ নারীও রয়েছেন। বাকি দুজনের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া দুই ক্রু সদস্যের শরীরে তীব্র শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে ২৩ দেশের ১৪৯ জন যাত্রী নিয়ে জাহাজটি কেপ ভার্দে উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। সংক্রমণ এড়াতে ইঁদুরের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা এবং ঘরবাড়ি পরিষ্কারের সময় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
হান্তাভাইরাস কী?
হান্তাভাইরাস মূলত ইঁদুরবাহিত একটি ভাইরাস। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্যমতে, ইঁদুরের প্রস্রাব, লালা বা বিষ্ঠা শুকিয়ে বাতাসে মিশে গেলে এবং নিশ্বাসের মাধ্যমে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে এই সংক্রমণ ঘটে। বিরল ক্ষেত্রে ইঁদুরের কামড় বা আঁচড় থেকেও এটি ছড়াতে পারে।
এই ভাইরাসের কারণে দুটি মারাত্মক রোগ হতে পারে:
- হান্তাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (এইচপিএস): এর প্রাথমিক উপসর্গ ক্লান্তি, জ্বর ও পেশিতে ব্যথা। শ্বাসকষ্ট শুরু হলে এর মৃত্যুহার প্রায় ৩৮ শতাংশ।
- হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম (এইচএফআরএস): এটি কিডনিকে আক্রান্ত করে এবং এর ফলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও কিডনি বিকল হতে পারে।
সংক্রমণের সময়রেখা
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, প্রমোদতরিটির এই সংকটের শুরু গত ৬ এপ্রিল। ওই দিন এক ডাচ নাগরিকের জ্বর ও মাথাব্যথা শুরু হয়। ১১ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। এরপর ২৪ এপ্রিল সেন্ট হেলেনায় ওই ব্যক্তির মরদেহ নামানো হয় এবং তার স্ত্রী বিমানে জোহানেসবার্গে ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২৬ এপ্রিল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় এবং পরীক্ষায় হান্তাভাইরাস শনাক্ত হয়। ২৭ এপ্রিল এক ব্রিটিশ যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানান্তর করা হয়, সেখানেও ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। সর্বশেষ ২ মে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত এক জার্মান নারী মারা যান।
চিকিৎসা
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ-এর তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় দেড় লাখ মানুষ এইচএফআরএস-এ আক্রান্ত হন, যার বড় অংশই চীন ও ইউরোপে। এই ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা বা ওষুধ নেই। সিডিসি বলছে, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) অক্সিজেন থেরাপি বা ভেন্টিলেশনই এর প্রধান চিকিৎসা।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্কারজয়ী অভিনেতা জিন হ্যাকম্যানের স্ত্রী বেটসি আরাকাওয়াও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার বাড়ির আঙিনায় ইঁদুরের বাসা পাওয়া গিয়েছিল।



