জ্বর ঠোসা কেন হয় ও করণীয় কী? জানালেন ডা. তাসনিম জারা
প্রতি বছর বিশ্বে যত মানুষ অন্ধ হয়ে যান, তার একটি বড় অংশের কারণ জ্বর ঠোসার ভাইরাস। এ ছাড়া জ্বর ঠোসা থেকে যৌনাঙ্গের হার্পিস হতে পারে, যা একবার হলে পুরোপুরি নির্মূল করার উপায় এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। নবজাতকের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়ালে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই জ্বর ঠোসা হলে হেলাফেলা না করে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। জ্বর ঠোসা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন চিকিৎসক তাসনিম জারা।
জ্বর ঠোসা কেন হয়?
জ্বর ঠোসা একটি ছোঁয়াচে রোগ, যা ‘হার্পিস সিমপ্লেক্স’ ভাইরাসের কারণে হয়। ভাইরাসটি শরীরে বিভিন্নভাবে প্রবেশ করে: আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ বা লালার সংস্পর্শে, জ্বর ঠোসা স্পর্শ করে সেই হাত অন্য কারও মুখে দেওয়া, যৌনাঙ্গের সংস্পর্শে, এবং একবার শরীরে প্রবেশ করলে সারাজীবন থেকে যায়। বেশিরভাগ সময় ভাইরাস নিষ্ক্রিয় থাকে, কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে জেগে ওঠে। যেমন: ঠাণ্ডা লাগা, জ্বর, অসুস্থতা, ক্লান্তি, মানসিক চাপ, রোদে যাওয়া, বা মাসিকের সময়।
লক্ষণ
মুখমণ্ডলের যেকোনো স্থানে জ্বর ঠোসা উঠতে পারে। আগেই জ্বালাপোড়া, ঝিমঝিম বা চুলকানি শুরু হয়। পরবর্তী ৬-৪৮ ঘণ্টায় ছোট ফোস্কা ওঠে, ফেটে গিয়ে চলটা পড়ে এবং ১০ দিনের মধ্যে সেরে ওঠে। সেরে ওঠার আগ পর্যন্ত ছোঁয়াচে থাকে।
ছোঁয়াচে থাকার সময়কাল
জ্বালাপোড়া শুরু হওয়া থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠা পর্যন্ত ছোঁয়াচে থাকে। কাঁচা বা ফেটে গেলে বেশি ছোঁয়াচে।
সতর্কতা
চোখের সুরক্ষা
কর্নিয়ায় হার্পিস ইনফেকশন অন্ধত্বের কারণ হতে পারে। তাই জ্বর ঠোসায় হাত না লাগানো, হাত ধোয়া, চোখে হাত না দেওয়া, এবং প্রয়োজনে হাত ধুয়ে চোখে হাত দেওয়া উচিত।
যৌনাঙ্গের হার্পিস থেকে সুরক্ষা
ওরাল সেক্স এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ যৌনাঙ্গে হার্পিস ছড়াতে পারে, যা একবার হলে সারে না এবং নবজাতকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
নবজাতক ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সুরক্ষা
জ্বর ঠোসা থাকা অবস্থায় নবজাতককে চুমু দেওয়া বা স্তনপান করানো থেকে বিরত থাকতে হবে। একজিমা থাকলে সতর্কতা বেশি জরুরি।
আলঝেইমার রোগের সম্পর্ক
গবেষণায় জ্বর ঠোসা ভাইরাস ও আলঝেইমারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই ভাইরাস ছড়ানো প্রতিরোধ করা জরুরি।
করণীয়
সাধারণত জ্বর ঠোসা নিজে নিজেই সেরে যায়। তবে লক্ষণ উপশমে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে:
- অ্যান্টিভাইরাল ক্রিম: শুরু থেকেই লাগালে দ্রুত সারে। হাত ধুয়ে আলতো করে লাগান।
- মধু: মেডিকেল গ্রেড কানুকা মধু অ্যান্টিভাইরাল ক্রিমের মতো কার্যকর। দিনে পাঁচবার লাগান।
- ব্যথা কমানো: বরফ, ঠাণ্ডা সেঁক, লিডোকেইন জেল, প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন ব্যবহার করুন।
- পানিশূন্যতা এড়ানো: পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- ত্বক ফাটা রোধ: পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান।
- রোদ থেকে সুরক্ষা: সানস্ক্রিন বা সানব্লক লিপ বাম ব্যবহার করুন।
- পুনরায় হওয়া ঠেকানো: রোদ, মানসিক চাপ ও ক্লান্তি এড়িয়ে চলুন।
যা করবেন না
- জ্বর ঠোসা স্পর্শ করবেন না। স্পর্শ করলে হাত ধুয়ে নিন।
- কাউকে চুমু দেবেন না, বিশেষ করে শিশুদের।
- খাবার বা পানি শেয়ার করবেন না।
- ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা রাখুন।
- ওরাল সেক্স এড়িয়ে চলুন।
- চোখে হাত দেবেন না।
- টমেটো, কমলা, মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলতে পারেন।
- দাঁতের প্রসিডিউর করাবেন না।



