কোমরের একপাশে ব্যথা: কিডনি ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ
কোমরের ব্যথা কিডনি ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে

কিডনি ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই শরীরে থাকতে পারে। আবার অন্য রোগের পরীক্ষার সময় হঠাৎ ধরা পড়ে। তবে কিছু সতর্ক সংকেত রয়েছে, যেগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করলে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। ভারতীয় কিডনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও অনকোলজিস্ট ডা. প্রভাত রঞ্জনের বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে কিডনি ক্যানসারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক লক্ষণের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতি

কিডনি ক্যানসারের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হলো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে হেমেচুরিয়া নামে পরিচিত। এতে প্রস্রাব গোলাপি, লাল কিংবা কোলা রঙের মতো দেখাতে পারে। তবে সব সময় খালি চোখে রক্ত দেখা যায় না; অনেক ক্ষেত্রে প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি ধরা পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই একবারও প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। সংক্রমণ, কিডনিতে পাথর বা অন্য কারণেও এমন হতে পারে, তবু কিডনি ক্যানসারের সম্ভাবনা আছে কি না, তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

কোমরের এক পাশে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা

কোমরের নিচের অংশ বা শরীরের এক পাশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা থাকাও কিডনি ক্যানসারের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। সাধারণ পেশির ব্যথার মতো এই অস্বস্তি বিশ্রাম বা প্রচলিত ব্যথানাশক ওষুধে সহজে কমে না। বিশেষজ্ঞরা জানান, কিডনিতে টিউমার বড় হলে আশপাশের টিস্যুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে এমন ব্যথা অনুভূত হয়। তাই দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের ব্যথা থাকলে, বিশেষ করে অন্য উপসর্গও থাকলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া

খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাপনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না আনলেও যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, সেটি সতর্ক হওয়ার একটি কারণ হতে পারে। ক্যানসারের কারণে শরীরের বিপাকক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে এবং প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে, যার প্রভাবে ধীরে ধীরে ওজন হ্রাস পায়। এ ধরনের ওজন কমার সঙ্গে অনেক সময় ক্ষুধামন্দা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং সার্বিকভাবে অসুস্থ লাগার অনুভূতিও দেখা দেয়। এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

দ্রুত শনাক্ত করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

একসময় কিডনি ক্যানসারের প্রধান তিনটি লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবে রক্ত, কোমরের ব্যথা এবং পেটে চাকা অনুভব করাকে একসঙ্গে বিবেচনা করা হতো। তবে বর্তমানে এই তিনটি উপসর্গ একসঙ্গে দেখা যাওয়ার ঘটনা তুলনামূলক কম এবং অনেক সময় তা রোগের অগ্রসর পর্যায় নির্দেশ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আলট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান ও এমআরআইয়ের মতো আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই উপসর্গ প্রকট হওয়ার আগেই কিডনি ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

এ ছাড়া ধূমপান, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘদিনের কিডনি রোগ এবং কিছু বংশগত জিনগত কারণ কিডনি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই এসব ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, কিডনি ক্যানসার যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, চিকিৎসার ফল তত ভালো হয়। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়, আবার রোগের ধরন ও অবস্থার ওপর নির্ভর করে অন্য চিকিৎসা পদ্ধতিও কার্যকর হতে পারে। তাই প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সময়মতো পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।