ফুসফুসের ক্যানসার বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী রোগ। তবে এই রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, শুরুর দিকে এর লক্ষণগুলো অনেকটাই সাধারণ ঠান্ডা-কাশি বা মৌসুমি অসুস্থতার মতো হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ ধরা পড়ে অনেক দেরিতে। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুসের ক্যানসার শুরুতে নীরবে শরীরে বিস্তার লাভ করে এবং ধীরে ধীরে ফুসফুসের ক্ষতি করে। তাই কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দীর্ঘদিনের কাশি হলে সতর্ক হোন
সাধারণ সর্দি-কাশি সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কমে আসে। কিন্তু কাশি যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হয় বা সময়ের সঙ্গে আরও তীব্র হয়ে ওঠে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। অনেক সময় কাশি গভীর, কর্কশ বা ঘনঘন হতে পারে। অনেকে এটিকে আবহাওয়ার পরিবর্তন বা অ্যালার্জির সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। তবে দীর্ঘদিন কাশি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বারবার ফুসফুসে সংক্রমণও হতে পারে সতর্কবার্তা
ঘন ঘন নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিসে আক্রান্ত হওয়া, বিশেষ করে ফুসফুসের একই অংশে বারবার সংক্রমণ দেখা দিলে তা ফুসফুসের ভেতরে টিউমারের উপস্থিতির ইঙ্গিত হতে পারে। সাধারণত বড় ধরনের সংক্রমণের পর শরীর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে একই সমস্যা ফিরে এলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি
ফুসফুসের ক্যানসারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি। কখনো চাপ লাগার মতো, আবার কখনো তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভূত হতে পারে। হাসি, কাশি বা গভীর শ্বাস নেওয়ার সময় ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। ফুসফুসের টিস্যু বা আশপাশের স্নায়ু আক্রান্ত হলে এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
কণ্ঠস্বর বদলে গেলে গুরুত্ব দিন
ঠান্ডা লাগলে বা গলায় সংক্রমণ হলে সাময়িকভাবে গলা বসে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে কণ্ঠস্বর যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কর্কশ থাকে বা স্বাভাবিকের তুলনায় বদলে যায়, তাহলে তা ফুসফুসের টিউমার কাছাকাছি স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি করার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শ্বাস নিতে কষ্ট হলে অবহেলা নয়
হাঁটাহাঁটি, সিঁড়ি ভাঙা বা দৈনন্দিন কাজের সময় যদি আগের তুলনায় সহজেই শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয় এবং সময়ের সঙ্গে তা বাড়তে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। টিউমার বড় হলে শ্বাসনালিতে চাপ পড়ে, ফলে ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
অকারণে ওজন কমে যাওয়া
খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামে কোনো পরিবর্তন না এনে যদি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওজন কমে যায়, তাহলে সেটিও সতর্কসংকেত হতে পারে। ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি শরীরের বিপাকক্রিয়া পরিবর্তন করে, ফলে বেশি শক্তি ব্যয় হয়। এতে নিয়মিত খাবার খেলেও শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না এবং ওজন কমতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এসব উপসর্গের একটি বা একাধিক দীর্ঘদিন ধরে থাকলে নিজে থেকে ওষুধ খেয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসা সহজ হয় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।



