প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও দক্ষতাভিত্তিক করতে একাধিক নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তৃতীয় ভাষা ও কারিগরি শিক্ষা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিসহ আরো কিছু ভাষা আমরা সিলেক্ট করবো। যে ভাষা শিখলে দেশে বা বিদেশের যেকোনো জায়গায় গেলে যেন কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।' তিনি আরও বলেন, 'ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আমরা কারিগরি শিক্ষা চালু করতে চাই। এটি একটি বাড়তি দক্ষতা হিসেবে যোগ হবে।'
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, 'আমাদের সব কাজ তোমাদের ঘিরে। কারণ, আমরা এখন আছি, পরে আর থাকব না; কিন্তু তোমরা থাকবে। তোমরা বাংলাদেশকে সামনে নিয়ে যাবে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব তোমরা দেবে।' তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আমাদের প্রতিটি কাজের আউটপুট থাকতে হবে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে এবং দেশকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাবে।'
খেলাধুলা ও সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্তি
প্রধানমন্ত্রী জানান, 'আমরা সিলেবাসের মধ্যে বিভিন্ন খেলা অন্তর্ভুক্ত করব। এতে যার যে খেলা ভালো লাগবে সে খেলায় আরও বেশি দক্ষ হয়ে উঠবে।' তিনি বলেন, 'এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে আমরা খেলাধুলা, সংস্কৃতি, ইনোভেশন নিয়ে আসতে চাচ্ছি। এটি আমাদের দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা।'
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন
পাশে বসা শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনকে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বলেন, 'তোমাদের মধ্যে যে দক্ষতাগুলো রয়েছে, সেগুলো বের করে আনার পরিকল্পনা আমরা ১০ বছর ধরে করছি। মাহদী আমিন যখন অক্সফোর্ডে পড়ত, তখন আমরা বসে বসে ভাবতাম। যখন আমরা দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ পাব, তখন এগুলো করব।'
অনুষ্ঠানের বিবরণ
অনুষ্ঠানটি সারা দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং 'স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং' জাতীয় প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে আয়োজিত হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনার পর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও বাইবেলের অংশবিশেষ পাঠ করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
বক্তব্য ও পুরস্কার বিতরণ
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক প্রমুখ। বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং এ ধরনের আয়োজনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে সারা দেশের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন কর্মসূচি
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে ১২ জুন সারা দেশে শুরু হয় 'স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম'। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি উপজেলা-থানা, জেলা ও জাতীয় এই তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার অনুষ্ঠানে প্রতিটি ধাপের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দলকে ২০ হাজার টাকার চেক, পদক ও সনদপত্র এবং বিজয়ী শিক্ষকদের ৩০ হাজার টাকার চেক ও সনদপত্র প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।



