শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আগামীতে টেক্সটাইল খাতকে এগিয়ে নিতে গবেষণা, উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ৫২তম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
বুটেক্স শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের ভূমিকা
মন্ত্রী বলেন, বুটেক্সে ভর্তি হওয়া কোনোভাবেই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারার বিকল্প নয়। বরং এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে। তিনি জানান, চলতি বছর বুটেক্সের প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বিভিন্ন ক্যাডারে, বিশেষ করে প্রশাসন, পররাষ্ট্র ও পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এছাড়া বুটেক্সের সাবেক শিক্ষার্থীরাও দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ও উদ্ভাবন
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। বিদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা দেখে গর্ববোধ হয়। তবে দেশের বাজারেও আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে এবং এ জন্য উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই উদ্ভাবনের নেতৃত্ব তারাই দেবে।
কারিগরি শিক্ষায় অগ্রাধিকার
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা- বিশেষ করে কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। উন্নত বিশ্বের জনসংখ্যা কমলেও বাংলাদেশের জনসংখ্যা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, যা দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা থেকে সংস্কার
তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও আধুনিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, ইউনিফর্ম এবং খেলাধুলাভিত্তিক আনন্দময় শিক্ষা চালু করা হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে এবং ২০২৭ সালে পরিমার্জিত এবং ২০২৮ সালে নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
পৃথক বিসিএস ক্যাডারের দাবি
টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য পৃথক বিসিএস ক্যাডার গঠনের দাবির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হলেও দাবিটি যৌক্তিক। এটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
তিনি নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং টেক্সটাইল খাতকে বিশ্বে আরও এগিয়ে নিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। সরকার তাদের যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলসের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



