মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন জটিলতা নিরসনে ইএফটি অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ
মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন জটিলতা নিরসনে ইএফটি উদ্যোগ

মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ প্রকল্পের আওতায় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করায় শিগগিরই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংসদে বেতন বিলম্বের বিষয়টি উত্থাপন

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন প্রাপ্তিতে বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘জুন মাসের ১৬ তারিখেও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষককে বেতন দেওয়া হয়নি। একজন শিক্ষক টাকার অভাবে মায়ের চিকিৎসা করতে পারছেন না।’ বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংসদে উত্থাপিত এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে।

এমইএমআইএস প্রকল্পের সংশোধনী

বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭ সালে প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম’ প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন করা হয়েছিল। তবে বিগত সরকারের সময় প্রকল্পটি থেকে স্বয়ংক্রিয় ‘ইএফটি’ কার্যক্রম বাদ দিয়ে অনুমোদন দেওয়ার কারণে মাঠপর্যায়ে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও দ্রুত পরিশোধের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। বর্তমান সরকার এই সমস্যা নিরসনে প্রকল্পটিতে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে। ৯ জুন একনেক সভায় ইএফটি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করে ‘এমইএমআইএস সাপোর্ট (২য় সংশোধিত) (প্রস্তাবিত ৩য় সংশোধন)’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই সংশোধিত প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাইলটিং কার্যক্রম ও বর্তমান পদ্ধতি

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, পূর্বে এই প্রকল্পের আওতায় দেশের আটটি বিভাগের মাত্র আটটি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলক বা পাইলটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হতো। এই নির্দিষ্ট আটটি প্রতিষ্ঠান ব্যতীত দেশের অন্য সব মাদ্রাসায় বর্তমানে ম্যানুয়াল বা অ্যানালগ পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা প্রক্রিয়া করতে হচ্ছে। আর এই সনাতন পদ্ধতির কারণেই প্রতি মাসে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধে কয়েক দিন বিলম্ব হচ্ছে।

খুব দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।