গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পিএইচডি স্কলারশিপ সংক্রান্ত অনিয়ম, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রবিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। ফাতেমা খাতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের (সাদা দল) একাংশের সদস্যসচিব।
অভিযোগ ও তদন্ত
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলে ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফেলোশিপ ট্রাস্ট তার পিএইচডি স্কলারশিপ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলে। শিক্ষা ছুটি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের তারিখ, ডিফেন্স-সংক্রান্ত সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেননি। এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার লিখিতভাবে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনও জবাব দেননি। পরে বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়।
রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত
গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় রিজেন্ট বোর্ডের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে মত দেন যে, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগে তিনি সন্দেহাতীতভাবে অভিযুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভার ৪৩/৬ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফাতেমা খাতুনকে ২৩ জুন ২০২৬ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদ থেকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণ করা অর্থ বিধি অনুযায়ী ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
১৬ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতি
একই দিন শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান না করায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ১৬ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথক আরেক অফিস আদেশে বলা হয়, ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষাছুটিতে বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষকদের বারবার লিখিতভাবে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়; কিন্তু ১৬ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার স্বার্থে তাদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



