ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ টাকার একটি বাজেট প্রস্তাব করেছে, যেখানে মোট বরাদ্দের অর্ধেকের বেশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে গবেষণা খাতে বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছে।
বাজেটের আকার ও উৎস
প্রস্তাবিত বাজেটটি আগের অর্থবছরের বরাদ্দের চেয়ে ৫৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সোমবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট সভায় এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের কাছে ১ হাজার ৪২২ কোটি টাকা চেয়েছিল। তবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ৯৪৯ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবির ৬৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ঢাবি নিজস্ব আয় থেকে ৮৫ কোটি টাকা সংগ্রহের আশা করছে। নিজস্ব আয় যোগ করার পরও নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৩ দশমিক ৮৫ কোটি টাকার ঘাটতি থাকবে।
বরাদ্দের বিবরণ
পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও বাজেটের বড় অংশ বেতন, ভাতা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে, অন্যদিকে গবেষণার জন্য বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।
- বেতন: ৩২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা (মোট বাজেটের ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ)
- ভাতা: ২২৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা (২১ দশমিক ৭২ শতাংশ)
- পণ্য ও সেবা: ২২২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা (২১ দশমিক ৫৮ শতাংশ)
- পেনশন ও অবসর সুবিধা: ১৫০ কোটি ২৯ লাখ টাকা (১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ)
- গবেষণা অনুদান: ২১ কোটি টাকা (মাত্র ২ দশমিক ০৩ শতাংশ), যা আগের অর্থবছরের ২ দশমিক ০৮ শতাংশ থেকে কিছুটা কম
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে: বিবিধ অনুদানের জন্য ৩৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ৩৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যানবাহনের জন্য ৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, আইসিটি লজিস্টিকসের জন্য ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা ও অন্যান্য মূলধনি ব্যয়ের জন্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
গবেষণায় বরাদ্দ নিয়ে উদ্বেগ
বাজেট কাঠামো বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনরাবৃত্তিমূলক পরিচালন ব্যয় মেটানোর ওপর জোর দেওয়ার ধারা অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে গবেষণার জন্য সীমিত বরাদ্দ একাডেমিক উদ্ভাবন ও গবেষণা সক্ষমতা সম্প্রসারণের চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে।
সিনেট সভায় বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার কোনো বিকল্প নেই। তহবিল সংকটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইউজিসি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে গবেষণা খাতের জন্য কোনো নির্দিষ্ট তহবিল বরাদ্দ করেনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার জিডিপির মাত্র ০ দশমিক ৩ শতাংশ গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় করে, যা ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের তুলনায় অনেক কম। কোষাধ্যক্ষের মতে, এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের বাজেটের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ মৌলিক ও ফলিত গবেষণায় বরাদ্দ করে। বিপরীতে, অপর্যাপ্ত তহবিল ঢাবির গবেষণা ও উদ্ভাবনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের সক্ষমতাকে সীমিত করে চলেছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি তহবিলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, এবং এর অধিকাংশ বাজেট ইউজিসি অনুমোদিত বরাদ্দ থেকে আসে।



