অষ্টম শ্রেণির অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু ২ মে
অষ্টম শ্রেণির অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ২ মে থেকে

২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আগামী ২ মে থেকে শুরু হবে। ২০২৫ সালের সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ২০২৪ সালের ষষ্ঠ শ্রেণিতে বোর্ডের অধীনে রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থীরা eSIF পূরণের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে। রেজিস্ট্রেশন চলবে ২৫ মে পর্যন্ত। গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বোর্ডের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষককে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রেজিস্ট্রেশনের শর্তাবলী ও বয়সসীমা

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষা বছরের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীর ন্যূনতম বয়স ১১+ এবং সর্বোচ্চ ১৭ বছর হতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা সর্বোচ্চ ২২ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬১–এর (১৯৬১ সালের ৩৩ নম্বর আইন) ৩৯ (২) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৭ সালের ২৩ এপ্রিলের চিঠিতে জারি করা নীতিমালা অনুসারে, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কাছ থেকে পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কেবল নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবে। বোর্ড কর্তৃক পাঠদানের অনুমতিবিহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পার্শ্ববর্তী বা নিকটতম অনুমোদিত নিম্নমাধ্যমিক/মাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পাঠদানের অনুমতিবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া

ঢাকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে OEMS/eSIF বাটনে ক্লিক করে EIIN ও Password দিয়ে লগইন করতে হবে। Dashboard থেকে eSIF Eight-এ ক্লিক করলে Payable Fees of Eight 2026 Registration-এ Applicant name, Mobile no. এবং Number of Students দিয়ে Print Sonali Seba-এ ক্লিক করে সোনালী সেবার স্লিপটি প্রিন্ট করতে হবে। উল্লেখ্য, ফরমটি কোনোভাবেই ফটোকপি করে ব্যাংকে জমা দেওয়া যাবে না। নির্ধারিত খাত ছাড়া অন্য খাতে ফি জমা দেওয়া যাবে না। বোর্ডের অনুমতি ব্যতীত অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা যাবে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পেমেন্ট ও তথ্য এন্ট্রি

ব্যাংকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেমেন্ট ক্লিয়ার করলে নির্ধারণকৃত শিক্ষার্থীদের eSIF পূরণ করা যাবে। পেমেন্ট ক্লিয়ারের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় সোনালী সেবার স্লিপ বের করা যাবে এবং বাদ পড়া শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি করা যাবে। শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য তথ্য আপলোড করার লক্ষ্যে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সমন্বয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি রেজিস্ট্রেশন কমিটি গঠন করতে হবে।

তথ্য যাচাই ও ফাইনাল সাবমিট

অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা ফাইনাল সাবমিটের আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির সদস্যরা বিদ্যালয়ে রক্ষিত ভর্তি ফরম ও জন্মসনদের সঙ্গে মিলিয়ে যথাযথভাবে নিশ্চিত করবেন। নিশ্চিত হওয়ার পর ফাইনাল সাবমিট করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে কোনো অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিযুক্ত করা যাবে না। চূড়ান্ত তালিকার প্রিন্টআউট (হার্ডকপি) প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করতে হবে। শিক্ষার্থীর তথ্যে ভুলত্রুটির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কমিটির সদস্যরা যৌথভাবে দায়ী থাকবেন। ফি জমাদান ও eSIF চলবে ২ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত।

রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য ফি

প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি ৫০ টাকা, স্কাউট ফি ২৫ টাকা, গার্ল গাইডস ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত কল্যাণ ট্রাস্ট তহবিল শিক্ষক বা কর্মচারীদের অবসর ১০০ টাকা এবং বিলম্ব ফি ৫০ টাকা। বিলম্ব ফি ব্যতীত মোট রেজিস্ট্রেশন ফি ২০৬ টাকা, বিলম্ব ফিসহ মোট ফি ২৫৬ টাকা। শিক্ষার্থীর কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না।

নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দেশনা

নতুন পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় (যেসব প্রতিষ্ঠান এর আগে নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে eSIF করেনি) ব্যানবেইস থেকে EIIN সনদ সংগ্রহ করার পর সোনালী ব্যাংকের সোনালী সেবার মাধ্যমে ১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়ে বিদ্যালয় শাখার মাধ্যমে Login Password সংগ্রহ করবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সব তথ্য নিশ্চিত হয়ে ডেটা এন্ট্রি করবে। উল্লিখিত তারিখের মধ্যে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করতে ব্যর্থ হলে বা এ কারণে শিক্ষার্থীর কোনো সমস্যা হলে এর দায়দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে বহন করতে হবে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি হালনাগাদ থাকতে হবে। স্বীকৃতিবিহীন বা হালনাগাদ স্বীকৃতি নবায়ন নেই, এমন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করলে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কি না’ তা উল্লেখ করতে হবে এবং প্রমাণস্বরূপ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত সনদ সংযুক্ত করতে হবে। যেসব স্কুল ও কলেজের নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে হালনাগাদ পাঠদান বা একাডেমিক স্বীকৃতি বা স্বীকৃতি নবায়নের মেয়াদ নেই, তাদের সত্বর পাঠদান বা একাডেমিক স্বীকৃতি বা স্বীকৃতি নবায়নের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন দাখিল করতে হবে।