নিয়াজ আহমদ খান গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে যোগদান করেছেন
নিয়াজ আহমদ খান গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক (সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার) হিসেবে যোগদান করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিয়েই এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

নিয়াজ আহমদ খানের পটভূমি

নিয়াজ আহমদ খান ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি পদত্যাগ করেন। তার এই দীর্ঘ মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়টি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা দর্শন

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘তিন শূন্য’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ) দর্শনের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম সাজানো হয়েছে। এই দর্শন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে তারা সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। ইতিমধ্যে পাঁচটি স্কুলের অধীনে ১৪টি অগ্রাধিকারমূলক প্রোগ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিয়োগ প্রক্রিয়া ও অনুমোদন

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়। বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হবে, যেখানে সদস্যরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তাঁরা কোনো ধরনের পারিশ্রমিক বা বৈঠক ভাতা (সিটিং অ্যালাউন্স) নেবেন না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নতুন উদ্যোগ দেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ড. ইউনূসের দর্শনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।