বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার শতবর্ষী চকরথিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনা নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন রাস্তায় বসে পাঠদান করছে। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গত ১৭ মে নদী ভাঙনের শিকার হয়, যা ছিল গত ৯ বছরে ষষ্ঠবারের মতো।
রাস্তায় পাঠদানের বাস্তবতা
বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর শিক্ষকরা নিজেদের চাঁদায় হাটশেরপুর গ্রামের একটি রাস্তায় একচালা টিনের ঘর নির্মাণ করেন। গত ৮ জুন থেকে ওই টিনের চালার নিচেই চলছে পাঠদান। সেখানে কোনো দেয়াল নেই, চারদিক খোলা। ফলে শিক্ষার্থীরা বৃষ্টিতে ভিজছে, আবার প্রচণ্ড রোদে ঘেমে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগও নেই।
রাস্তার ওপর অবস্থিত হওয়ায় যানবাহন, মানুষ ও গবাদিপশুর চলাচলে শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান জানান, কয়েকটি নদী পেরিয়ে তিনি স্কুলে আসেন; সেখানে এসেও বৃষ্টি বা রোদের মধ্যে পড়তে হয় এবং রাস্তার কারণে পড়ায় মনোযোগ দিতে পারেন না।
শিক্ষক ও এলাকাবাসীর দাবি
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিন্নাহ আলম বলেন, গত ১০ বছর ধরে তিনি এ স্কুলে শিক্ষকতা করছেন এবং ছয়বার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন। শেষবার নদী ভাঙনের পর উপায় না পেয়ে নিজেরা টাকা দিয়ে রাস্তায় সাময়িক পাঠদানের ব্যবস্থা করেছেন। এখানে কোনো বাথরুম নেই, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন। তিনি স্কুলটিকে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা জোর দাবি জানিয়েছেন, স্কুলটি দ্রুত কোনো সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তর করে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা সামনে রেখে শিখন ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
সারিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাতাবুর রহমান বলেন, তিনি স্কুলটি পরিদর্শন করেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। স্কুলটি নিজস্ব জায়গায় স্থাপনের উদ্যোগ চলমান রয়েছে এবং খুব শিগগিরই শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।



