সমাস কী?
সমাস হলো বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে একাধিক পদের মিলিত হয়ে একটি নতুন পদ গঠিত হয়। সমাসের মাধ্যমে ভাষাকে সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ করা হয়। নিচে বিভিন্ন প্রকার সমাসের উদাহরণ ও ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।
বহুব্রীহি সমাস
তেপায়া শব্দটির ব্যাসবাক্য 'তে (তিন) পায়া যার'। এটি একটি সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস। নদীমাতৃক শব্দটির ব্যাসবাক্য 'নদীমাতা যার', এটিও বহুব্রীহি সমাস। সেতার শব্দটি 'সে (তিন) তার যার' থেকেও বহুব্রীহি সমাস। লাঠালাঠি ও হাসাহাসি শব্দদুটো ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
দ্বন্দ্ব সমাস
তোরা শব্দটির ব্যাসবাক্য 'সে ও তুই', এটি একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস। দম্পতি শব্দটি 'জায়া ও পতি' থেকে দ্বন্দ্ব সমাস। দুধেভাতে শব্দটি 'দুধে ও ভাতে' থেকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
কর্মধারয় সমাস
নবপৃথিবী শব্দটির ব্যাসবাক্য 'নব যে পৃথিবী', এটি কর্মধারয় সমাস। মুখচন্দ্র শব্দটি 'মুখ চন্দ্রের ন্যায়' থেকে উপমিত কর্মধারয় সমাস। পুষ্পসৌরভ ও রাজপথ শব্দদুটো ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। বিষাদসিন্ধু ও যৌবনসূর্য রূপক কর্মধারয় সমাস।
তৎপুরুষ সমাস
পকেটমার শব্দটির ব্যাসবাক্য 'পকেট মারে যে', এটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস। পঙ্কজ শব্দটি 'পঙ্কে জন্মে যা' থেকেও উপপদ তৎপুরুষ সমাস। সলিলসমাধি শব্দটি 'সলিলে সমাধি' থেকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। নবীনবরণ শব্দটি 'নবীনকে বরণ' থেকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
অব্যয়ীভাব সমাস
যথারীতি শব্দটির ব্যাসবাক্য 'রীতিকে অতিক্রম না করে', এটি অব্যয়ীভাব সমাস। হাভাত শব্দটি 'ভাতের অভাব' থেকেও অব্যয়ীভাব সমাস।
নিত্য সমাস
দেশান্তর ও যুগান্তর শব্দদুটো নিত্য সমাসের উদাহরণ।
দ্বিগু সমাস
শতাব্দী শব্দটির ব্যাসবাক্য 'শত অব্দের সমাহার', এটি দ্বিগু সমাস। সপ্তর্ষি শব্দটি 'সপ্ত ঋষির সমাহার' থেকেও দ্বিগু সমাস।
ফারুক আহমেদ আবির, প্রভাষক, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা।



