অনলাইনে ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা, দরকার কার্যকর পদক্ষেপ
অনলাইনে ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা

দেশের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তারা পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরণের বৈষম্য তৈরি হবে।

অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতা

বাংলাদেশে করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীর কাছে প্রয়োজনীয় ডিভাইস ও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় তারা এসব ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না। গ্রামীণ এলাকায় এ সমস্যা আরও প্রকট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফিয়া ইসলাম বলেন, “আমার বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ নেই। মোবাইল ডেটা দিয়ে ক্লাস করা খুব কষ্টকর। অনেক সময় নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ক্লাস মিস করতে হয়।” তিনি আরও জানান, অনেক শিক্ষার্থীর কাছে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ নেই, ফলে তারা পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থনৈতিক সংকট ও শিক্ষার বৈষম্য

অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে অনেক পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা নেই। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবারের ইন্টারনেট সংযোগ নেই।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, “অনলাইন শিক্ষা কার্যকর করতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ডিভাইস ও ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও জরুরি।” তিনি আরও যোগ করেন, “এখনই ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার বৈষম্য আরও বাড়বে।”

সরকারের গৃহীত উদ্যোগ

সরকার অনলাইন শিক্ষার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এছাড়া দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাস্তবায়নের গতি ধীর।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা সচেতন যে অনলাইন ক্লাসে সব শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারছে না। আমরা ধাপে ধাপে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিভাইস বিতরণের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের হতাশা ও ভবিষ্যৎ

অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী হতাশায় ভুগছে। তারা মনে করছে, তাদের পড়াশোনা পিছিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে তারা।

বাংলাদেশ শিক্ষার্থী ফেডারেশনের সভাপতি নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা দাবি করছি, সরকার যেন দ্রুত সব শিক্ষার্থীর জন্য অনলাইন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক হতাশা তৈরি হবে।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যেরও দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।”