দীর্ঘ অপেক্ষা, ফল প্রকাশের তারিখে একাধিক পরিবর্তন এবং ফল আগে প্রকাশের বিতর্কের পর অবশেষে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) বেলা ১২টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ফলাফল জানার উপায়
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেকোনো মোবাইল অপারেটরের মেসেজ অপশনে গিয়ে DPE লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর টাইপ করে 16222 নম্বরে পাঠালে রিটার্ন এসএমএসে ফলাফল জানা যাবে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস ওয়েবসাইট https://ipemis.dpe.gov.bd/scholarship-results-এ গিয়ে 'প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা' অপশন নির্বাচন করে রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলার তথ্য দিয়ে বিস্তারিত ফলাফল ও মার্কশিট দেখা যাবে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও বৃত্তি বিতরণ
এ বছর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। নীতি অনুযায়ী, মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে। এর মধ্যে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল বা মেধা বৃত্তি এবং ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পাচ্ছে।
সরকারি-বেসরকারি কোটা
সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বৃত্তি বিতরণে পৃথক কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। সেই অনুযায়ী, সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ৬৬ হাজার এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১৬ হাজার ৫০০ বৃত্তি বরাদ্দ করা হয়েছে।
বৃত্তির অর্থ ও মেয়াদ
বর্তমান নীতি অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মাসে ২২৫ টাকা করে বৃত্তি পাবেন। এছাড়া উভয় ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের বছরে অতিরিক্ত ২২৫ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তারা ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন দুই বছর এই সুবিধা ভোগ করবেন।



