টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিভাস সরকারের বিরুদ্ধে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার মির্জাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের তেঘরী কেশব গ্রামের বাসন্তী সরকার। সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন ধীরেন সরকারসহ অন্যরা।
অভিযোগের বিবরণ
লিখিত বক্তব্যে বাসন্তী সরকার বলেন, তাঁর বাবা সুনীল সরকার ও স্থানীয় বাসিন্দা উপেন্দ্র মণ্ডলসহ কয়েকজন প্রায় ৪০ বছর আগে নিজেদের জমিতে দরিদ্র শিশুদের জন্য একটি পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে সেখানে নিয়মিত পাঠদান হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ভবনটি বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২০১২ সালে সুনীল সরকার তাঁর ১৪ দশমিক ৫০ শতক জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন। বাসন্তী সরকার দাবি করেন, ২০২১ সালে মিনতি রানী জমিটি দুই মেয়ে রত্না সরকার ও বাসন্তী সরকারের নামে হস্তান্তর করেন।
মারধর ও হুমকির ঘটনা
সম্প্রতি বিভাস সরকার পাঠশালার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে পরিবারটির চলাচলের পথ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। গত ২৭ জুন সকালে সেখানে মাটি ফেলা শুরু হলে বাধা দিতে গেলে বাসন্তী সরকার, তাঁর স্বামী ও মেয়েকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে খুশীমোহন মণ্ডল বলেন, ‘চেয়ারম্যান তাঁর চেলাবেলা দিয়া জাগা দখল কইর্যা রাখছে। কোর্টের ডিক্রি আছে, তারপরও আমরা জায়গায় যাইতে পারতাছি না। এই বিচার আমরা কোথায় পাব। আমাগো পিঠ দেয়ালে ঠেইকা গেছে। আমাগো মরণ ভালো।’
চেয়ারম্যানের বক্তব্য
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান বিভাস সরকার। মুঠোফোনে তিনি বলেন, স্কুলের পুরো জায়গা তাঁর। এওজ (জমির বিনিময় বা অদলবদল) সূত্রে তিনি জমিটির মালিক হয়েছেন। বাসন্তী সরকার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে তাঁর ভাষ্য, ‘তাঁদের সঙ্গে আমার দেখাই হয় না।’
অন্যদিকে অভিযোগকারীরা বলেন, জমি এওজের বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না। তাঁরা এখনো সরকারি নিয়মে জমির খাজনা পরিশোধ করে আসছেন।
পুলিশের অবস্থান
বাসন্তী সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন।



