নীলফামারীর তিস্তা নদীতে অবৈধ পাথর উত্তোলন ঠেকাতে সংঘর্ষ, আহত ১৭
নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধের প্রচেষ্টায় এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ি এলাকায় এ হামলায় পুলিশ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ ও আহতদের অবস্থা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন পাথর উত্তোলন বন্ধের উদ্যোগ নিলে উত্তোলনকারীদের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। তিনি গ্রাম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে উত্তোলনকারীরা হামলা চালায়, যাতে চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
পরে পুলিশ ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে এলে তাদের ওপরও হামলা হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং একটি পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আহতদের মধ্যে সাবেক ইউনিয়ন জামায়াত আমির আফসার আলী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও রয়েছেন।
আহতদের প্রথমে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর আহত সাতজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ডিমলা থানার এসআই পরিতোষ রায় নিশ্চিত করেছেন যে হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান ও সাত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
অবৈধ উত্তোলনের পটভূমি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তিস্তা নদীতে বোমা মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর বাঁধ ও সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তিস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক বোমা মেশিন বসিয়ে পাথর উত্তোলন চলছে, যা নদীর পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।
প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালালেও কার্যকরভাবে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা যায়নি। ইউএনও মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান বলেন, হামলাকারীদের আটক করতে অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ঘটনা তিস্তা নদীর অবৈধ পাথর উত্তোলনের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা এবং পরিবেশগত বিপদকে আবারও সামনে এনেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে এলাকাবাসীর কাছ থেকে।



