সিলেটের জকিগঞ্জে সরকারি সড়কের ইট সরানোর অভিযোগে যুব জামায়াত নেতাসহ ৬ জন আটক
জকিগঞ্জে সড়কের ইট সরানোর অভিযোগে ৬ জন আটক

সিলেটের জকিগঞ্জে সরকারি সড়কের ইট সরানোর অভিযোগে যুব জামায়াত নেতাসহ ছয়জন আটক

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের একটি সড়ক থেকে বিপুল পরিমাণ ইট সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে উপজেলা যুব জামায়াতের এক নেতাসহ ছয়জনকে আটক করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও অভিযানের বিস্তারিত

আটকদের মধ্যে উপজেলা যুব জামায়াতের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি সড়কের ইট সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব ছিলেন মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী। তবে পরে তার বাড়ি থেকেই সরকারি প্রকল্পের ইট উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়।

সড়ক সংস্কার প্রকল্পের পটভূমি

জানা গেছে, ২০২১ সালে কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সি বাজার মাদ্রাসা থেকে উত্তর আইয়র বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক হেরিংবোন বন্ড পদ্ধতিতে প্রায় ১০ লাখ ইট দিয়ে সংস্কার করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর অধীনে সুরমা নদীর বাঁধ সংস্কার কাজ চলায় ওই সড়কে মাটি ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে মাটি ভরাটের আগে রাস্তার ইট তুলে মাদ্রাসার মাঠে সংরক্ষণ করার কথা ছিল।

অভিযোগ ও আইনগত প্রক্রিয়া

তবে অভিযোগ ওঠে, নির্দেশনার বাইরে বিপুল পরিমাণ ইট সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গত বুধবার (৪ মার্চ) এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবু ইউসুফ মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, রাতের অন্ধকারে সরকারি প্রকল্পের সড়ক থেকে প্রায় ১৫ লাখ ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পরদিন উপজেলা প্রশাসনের টাস্কফোর্স ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানে কয়েক লাখ ইট উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, অভিযানে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরীও রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে, তবে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এখনও চলমান বলে জানানো হয়েছে।