চাঁদপুরের ৪৫টি বাজারে বৈশাখ থেকে খাজনা আদায় বন্ধের ঘোষণা
চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার মোট ৪৫টি বাজারে আগামী ১লা বৈশাখ থেকে খাজনা আদায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হচ্ছে। চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের সরাসরি উদ্যোগে প্রান্তিক চাষিদের সহায়তা এবং হয়রানি বন্ধে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর থেকেই চাঁদাবাজি ও কৃষকদের হয়রানি বন্ধে জোরালো ঘোষণা দিয়েছিলেন এমপি মমিনুল হক, যা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি
ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বাজারগুলো ইজারা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকারি সব নিয়মনীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে কোষাগারে রাজস্ব জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১লা বৈশাখ শাহরাস্তি উপজেলায় এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এমপি ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক নিজেই। এরই মধ্যে বাজারগুলোকে খাজনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক সমর্থন ও জনগণের প্রতিক্রিয়া
শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ রুপম বলেন, "প্রান্তিক চাষিদের হয়রানি বন্ধে এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। দলীয়ভাবে আমরা এ উদ্যোগে পূর্ণ সহযোগিতা করছি। এতে খাজনার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও চাঁদাবাজির সুযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হবে।" উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া যোগ করেন, "জনগণের কাছে দেওয়া আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি সেই প্রতিশ্রুতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।"
প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজস্ব নিশ্চিতকরণ
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন বলেন, "এ ধরনের উদ্যোগ আগে দেখা যায়নি, এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও সাহসী পদক্ষেপ। তবে রাজস্ব আদায়ে কোনো ঘাটতি হবে না, কারণ ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে রাজস্ব পরিশোধ করা হয়েছে।" এই বক্তব্য প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
এমপি মমিনুল হকের প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, "প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাজনা আদায়ের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়, যা আমরা বন্ধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এসব বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।" তিনি আরও জানান, বাসস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ডসহ সব জায়গায় ইজারা ও চাঁদাবাজি বন্ধ রাখা হবে। কোনো অবস্থাতেই মানুষের প্রতি অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুম সহ্য করা হবে না, এটি তার অঙ্গীকারের কেন্দ্রবিন্দু।
এই পদক্ষেপটি চাঁদপুরের স্থানীয় অর্থনীতিতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা প্রান্তিক চাষি ও ছোট ব্যবসায়ীদের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে।



