৪৮ বছর পর ট্রেনের ভাড়া শোধ করলেন মফিজুল ইসলাম, অনুশোচনা থেকে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ
৪৮ বছর পর ট্রেনের ভাড়া শোধ করলেন মফিজুল ইসলাম

৪৮ বছর পর ট্রেনের ভাড়া শোধ করলেন মফিজুল ইসলাম

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম (৬৫) দীর্ঘ ৪৮ বছর পর তার ট্রেন ভাড়া পরিশোধ করেছেন। তিনি ১৯৭৬ সাল থেকে কাঁঠাল ব্যবসার জন্য বিনা টিকিটে ট্রেনে যাতায়াত করতেন, যা এখন তার মনে গভীর অনুশোচনার সৃষ্টি করেছে। সেই অনুশোচনা থেকে মুক্তি পেতে তিনি সম্প্রতি ২০ হাজার টাকা ট্রেনের টিকিট মূল্য হিসেবে পরিশোধ করেছেন।

অনুশোচনার কারণ ও ব্যবসার পটভূমি

মফিজুল ইসলাম তরুণ বয়সে কাঁঠালের ব্যবসা শুরু করেন। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে কাঁঠাল কিনে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করতেন এবং ট্রেনযোগে এই পণ্য পরিবহন করতেন। তবে সেই সময় তিনি নিয়মিত বিনা টিকিটে ট্রেনে যাতায়াত করতেন। মাঝেমধ্যে ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হাতে কিছু টাকা দিলেও সেগুলো রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হতো না।

বর্তমানে বৃদ্ধ বয়সে এসে তিনি নিজের সেই কাজকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেন এবং এটি তাকে প্রতিনিয়ত যন্ত্রণা দিচ্ছিল। এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্টেশন মাস্টারের পরামর্শে ৮ এপ্রিল তিনি ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মফিজুল ইসলামের বক্তব্য

মফিজুল ইসলাম বলেন, "১৯৭৬ সালের দিকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কাঁঠাল নিয়ে বিনা টিকিটে ট্রেনে ঢাকায় যাতায়াত করতাম। তখন বুঝতাম না এটা অপরাধ। কোন কোন সময় ট্রেনের দায়িত্বরতদের কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দিতাম, কিন্তু সেটা বৈধ ছিল না। এখন বৃদ্ধ বয়সে সেই অপরাধটা কুড়ে কুড়ে তীব্র যন্ত্রণা দিচ্ছিল। তাই নিজের ঋণ পরিশোধ করতে সেই ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেই। পরে স্টেশন মাস্টারের কাছে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করি। এখন নিজেকে অপরাধ মুক্ত মনে হচ্ছে। অনেক স্বস্তিবোধ করছি।"

তিনি আরও অনুরোধ করেন যে, কেউ যেন বিনা টিকিটে ট্রেনে বা কোনো যানবাহনে যাতায়াত না করেন

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রেলস্টেশন মাস্টারের প্রতিক্রিয়া

শ্রীপুর রেলস্টেশন মাস্টার মো. সাইদুর রহমান ২০ হাজার টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মফিজুল ইসলাম ১ এপ্রিল স্টেশনে এসে টাকা পরিশোধ করেন এবং ৬ এপ্রিল এই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

রেলস্টেশন মাস্টার বলেন, "রেলওয়েতে এভাবে পুরোনো বকেয়া বা দায়মুক্তির টাকা পরিশোধের আইনি বিধান রয়েছে। মফিজুল ইসলাম এসে যখন বিষয়টি খুলে বললেন, আমরা তার মানসিকতায় মুগ্ধ হয়েছি।"

এই ঘটনা সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মফিজুল ইসলামের এই কাজ অন্যের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।