লালমনিরহাটে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে মানচিত্র বসানো নিয়ে প্রশ্ন
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ভবনের সামনে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে সম্প্রতি একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ম্যুরালের ওপর উপজেলার মানচিত্র আঁকা হয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের একটি সিদ্ধান্তের ফল বলে জানা গেছে।
ম্যুরাল ভাঙচুর ও পরবর্তী পদক্ষেপ
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দুপুরে কিছু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভাঙচুর করেন। এরপর থেকে ম্যুরালটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে ছিল। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদারের উদ্যোগে ম্যুরালে বঙ্গবন্ধুর ছবির স্থলে ‘আদিতমারী উপজেলার মানচিত্র’ বসানো হয়েছে। ম্যুরালের পিলার, বাউন্ডারি ও কাঠামোগত সবকিছু আগের মতোই রাখা হয়েছে, শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর ছবিটি সরানো হয়েছে।
অর্থায়ন নিয়ে অস্বচ্ছতা
উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ম্যুরালে মানচিত্র বসানোর সিদ্ধান্ত ইউএনও বিধান কান্তি হালদার নিয়েছেন। প্রায় মাসখানেক পার হলেও এই কাজের জন্য কোনও বিল তৈরি করা হয়নি। মানচিত্র বসানোর টাকা কোথায় থেকে এসেছে, তা কর্মকর্তাদের অজানা।
এলজিইডির আদিতমারী উপজেলার প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক বলেন, ‘ম্যুরালে মানচিত্র বসানোর বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আমাদের অফিস থেকে কোনও টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেওয়া হয়নি। ইউএনও নিজে এই কাজ করেছেন বলে শুনেছি। টাকা কোথায় থেকে এসেছে বা কত টাকা খরচ হয়েছে, এসব বিষয়ে আমাদের কিছুই জানা নেই।’
ইউএনওর ব্যাখ্যা
এ বিষয়ে ইউএনও বিধান কান্তি হালদার বলেন, ‘এই কাজে সরকারের অর্থ খরচ করা হয়নি। উপজেলার আয়-ব্যয়ের টাকা খরচ হয়েছে। মানচিত্রে প্রায় দুই লাখ টাকার মতো খরচ করা হয়।’
দেশব্যাপী ম্যুরাল স্থাপনের খরচ
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও ভাস্কর্য স্থাপনে চার হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে বড় ম্যুরালে এক থেকে চার কোটি টাকা এবং ছোট ম্যুরালে ২০ লাখ টাকা খরচ করেছে সরকার। আদিতমারী উপজেলার এই ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও অর্থব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।



