লক্ষ্মীপুরে প্রবাসীর ঘর নির্মাণে ১০ পরিবার অবরুদ্ধ, চলাচলের পথ বন্ধ
লক্ষ্মীপুরে প্রবাসীর ঘর নির্মাণে ১০ পরিবার অবরুদ্ধ

লক্ষ্মীপুরে প্রবাসীর ঘর নির্মাণে ১০ পরিবার অবরুদ্ধ, চলাচলের পথ বন্ধ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় প্রবাসী দুই ভাইয়ের ঘর নির্মাণের কারণে চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ হয়ে অন্তত ১০টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

উপজেলার ৪নং চরমার্টিন ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের রুহুল আমিন হাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী হাজী রুহুল আমিনের ভাতিজা ও একই বাড়ির বাসিন্দা শাহজাহানের ছেলে প্রবাসী কামাল ও জামাল উদ্দিন সম্প্রতি তাদের নিজেদের অংশের ২৪ শতক জমিতে ফাউন্ডেশন দিয়ে পিলার উত্তোলনের মাধ্যমে একটি ঘর নির্মাণকাজ শুরু করেন।

এতে ওই জমির পাশ দিয়ে ওয়ারিশি সম্পত্তির উপর গড়ে ওঠা অন্তত ১০টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি দখল হয়ে যায়। রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় ওই এলাকার অন্তত দেড় শতাধিক মানুষ যাতায়াতের পথ হারিয়ে পুরোপুরি গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অবরুদ্ধ পরিবারের বক্তব্য

সরেজমিন গেলে অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্য মো. সিরাজ, আব্দুল হাসিম ও নিজাম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা বংশপরম্পরায় এই পথ দিয়ে চলাচল করছেন; কিন্তু হঠাৎ করে কামাল ও জামাল জায়গাটি নিজেদের মালিকানা দাবি করে চলাচলের কোনো বিকল্প পথ না রেখেই ঘর তোলা শুরু করেন। এতে তারা এখন কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় অটোরিকশাচালক আবুল বাসার। তিনি বলেন, "আমি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় কয়েক দিন ধরে গাড়িটি বের করতে পারছি না। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে এখন অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের অবস্থান

অভিযোগকারী হাজী রুহুল আমিন জানান, কামাল ও জামাল যেখানে ঘর তুলছেন তার পেছনে তার দেড় কানি জমি রয়েছে। সেখানে ১০টি পরিবার বাস করে। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত এই ওয়ারিশি পথটি তারা গায়ের জোরে বন্ধ করে দিচ্ছে। নিষেধ করার পরও তারা কাজ চালিয়ে যাওয়ায় পুলিশের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন দাবি করেন, নির্মাণাধীন জমিটি তাদের মালিকানাধীন। তবে যাতায়াতের পথ বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, "এই পথটি বন্ধ করা হলেও পরবর্তীতে অন্য জায়গা দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তা বের করে দেওয়া হবে।"

পুলিশের হস্তক্ষেপ

হাজিরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ফাঁড়ি ইনচার্জ একে আজাদ বলেন, "অভিযোগ পাওয়ার পর আমি সরেজমিন তদন্ত করে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি দ্রুত মীমাংসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে পারে। পুলিশ উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।