কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, যাত্রীদের চরম ভোগান্তি
দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট, যাত্রীদের ভোগান্তি

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

ভোরের পর থেকেই ধীরে ধীরে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার রাজারহাট থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আজ সকালে গৌরীপুর এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোর চারটা থেকে শুরু হওয়া এ যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

যানজটের কারণ ও স্থানীয় অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের পর থেকেই ধীরে ধীরে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে রাজারহাট থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অন্যতম ব্যস্ত এ মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় বেলা পৌনে ১১টার দিকে মহাসড়কে পাঁচ কিলোমিটার যানজট দেখা যায়।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, যানবাহনের চাপ এবং এলোমেলোভাবে যানবাহন চলাচলের কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও চালকদের অভিযোগ, সকালে দায়িত্ব শেষ করে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা সরে যাওয়ার পর অনেক চালক মহাসড়কের উল্টো লেনে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। এতে যানজটের তৈরি হয়।

যাত্রী ও চালকদের অভিজ্ঞতা

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় চিকিৎসক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, সকাল ছয়টায় ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে রাজারহাট এলাকায় এসে যানজটে পড়েন। পাঁচ মিনিটের পথ পার হতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই প্রায়ই এ স্থানে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী আল আরাফাহ পরিবহনের বাসের যাত্রী ও কুমিল্লা আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ সৃষ্ট এ যানজটে আটকে পড়েছেন তিনি। এতে নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।

সকালে মহাসড়কের স্বল্পপেন্নাই এলাকায় যানজটে আটকে ছিলেন চট্টগ্রামগামী মাইক্রোবাসের চালক জনি মিয়া। তিনি বলেন, হাইওয়ে থানার পুলিশ রাতভর দায়িত্ব পালন করার পর সকালে ঘুমাতে যায়। এ সুযোগে অসংখ্য যানবাহনের চালক উল্টো পথে যানবাহন চালাতে গিয়ে নিয়মিতভাবে একই স্থানে যানজটের সৃষ্টি করেন। এ জন্য কার্যকর কোনো সমাধান নেওয়া হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের।

যানজটের প্রভাব ও সম্ভাব্য সমাধান

এই যানজটের ফলে মহাসড়কের যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। স্থানীয়রা দাবি করছেন, পুলিশের নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারি বাড়ানো হলে এ ধরনের যানজট কমে আসতে পারে।

এছাড়াও, মহাসড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রচারণা চালানো জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যানজটের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং মানসিক চাপও বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।