ঝিনাইদহে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার: ভাইরাল অডিও বিতর্কের ছায়ায়
ঝিনাইদহের বিদায়ী জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নানা বিতর্কের মধ্যে এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ভাইরাল অডিওতে অনৈতিকতার অভিযোগ
গত সপ্তাহে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সদ্য বদলীকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরার একটি অডিও বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাল অডিওতে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।
- অকারণে তিরস্কার করার অভিযোগ
- ভুয়া প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ
- অনৈতিক দাবি না মানার কারণে হোসনে আরাকে হঠাৎ বদলি করার অভিযোগ
হোসনে আরা দাবি করেন, গত ঈদুল ফিতরের দুই দিন আগে তাঁকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বদলি করা হয়। অডিওতে তিনি আরও বলেন, তাঁর শিশুকন্যা গুরুতর অসুস্থ থাকলেও তাঁকে স্টেশন ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়, যা তাঁকে চরম ক্ষুব্ধ করে তোলে।
অডিও বিতর্কের পরবর্তী পদক্ষেপ
এই অডিও বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর হোসনে আরাকে সাতক্ষীরার তালা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এবার জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদকেও একইভাবে প্রত্যাহার করা হলো।
ভাইরাল অডিওর বিষয়ে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরার কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদ ২৮ মার্চ ফেসবুকের দুটি প্রোফাইল ও একটি পেজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে সদর থানায় জিডি করেন।
জেলা প্রশাসকের প্রতিক্রিয়া
প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, "এটা সরকারি সিদ্ধান্ত।" অডিও সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, "এটা এডিট করে করা হয়েছে।" তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন যে তিনি কোনো অনিয়ম করেননি।
এই ঘটনাটি ঝিনাইদহের প্রশাসনিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভাইরাল অডিও বিতর্কের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। নতুন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের নিয়োগের মাধ্যমে ঝিনাইদহে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



