চট্টগ্রামে থানায় হট্টগোল: পাওনা টাকা নিয়ে উত্তেজনা, আটক নেতা ছাড়া
চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানায় পাওনা টাকার জন্য এক ব্যক্তিকে আটকে রাখার অভিযোগে আটক স্বেচ্ছাসেবক দলের এক ওয়ার্ড নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে হট্টগোল ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাতে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ও পুলিশের বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ৯টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ একটি ফোন পেয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনি এলাকায় যায়। সেখানে তারা জানতে পারে, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য এক ব্যক্তিকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে পুলিশ ভুক্তভোগীসহ পাঁচজনকে থানায় নিয়ে আসে এবং বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, "পাওনা টাকার বিষয়ে ৯৯৯–এ খবর পেয়ে দুই পক্ষকে থানায় আনা হয়েছিল। তখন ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে এক যুবক থানায় আসেন এবং বাইরে কিছু লোক জড়ো করেন। ভুল–বোঝাবুঝির কারণে কিছুটা শোরগোল হয়। পরে তাঁকে বুঝিয়ে শান্ত করা হয়। ধস্তাধস্তির কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরে নিজেদের মধ্যে আপস করার প্রতিশ্রুতিতে সাগরসহ আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।"
নেতাদের বক্তব্য ও উত্তেজনার বিস্তার
ঘটনার কিছু সময় পর নিজেকে ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে ইমাম হোসেন থানায় যান এবং কেন তাঁর পরিচিত ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে, তা জানতে চান। ইমাম হোসেন ওরফে আবির নামের এই সাবেক ছাত্রদল নেতা বর্তমানে নগর যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি নগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশের দাবি, ইমাম হোসেন থানায় আসার পর বাইরে ৩০ থেকে ৪০ জন লোক জড়ো করা হয়, যা উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখা হয়। একপর্যায়ে ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের বদলির হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে, যদিও পুলিশ এই দাবি অস্বীকার করে। পরে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং শান্তি বজায় রাখতে সক্ষম হন।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
ইমাম হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় পাওনাদারেরা ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সাগর হোসেন ওরফে রুবেলের কাছে অভিযোগ দেন। সাগরের কর্মীরা ওই ব্যক্তিকে সেখানে নিয়ে এলে তাঁর মা ৯৯৯–এ ফোন করেন। পুলিশ গিয়ে সবাইকে থানায় নিয়ে আসে। খবর পেয়ে সাগর থানায় গেলে এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে লকআপে আটকে রাখা হয়।
ইমাম হোসেন দাবি করেন, "বিষয়টি জানতে পেরে আমি থানায় গেলে আমার সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।" তবে পুলিশ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা উল্লেখ করে।
পরিণতি ও সাম্প্রতিক অবস্থা
ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা হয়। আটক ব্যক্তিদের, যার মধ্যে সাগর হোসেনও রয়েছেন, নিজেদের মধ্যে আপস করার প্রতিশ্রুতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা চট্টগ্রামে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ থানায় হস্তক্ষেপের দিকে মোড় নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা এই বিষয়ে আরও তদন্ত চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন করবে।



