নান্দাইলে ভিজিএফ চাল জব্দ: উপকারভোগীর কার্ড বিক্রি, দোকানে মজুদের অভিযোগ
নান্দাইলে ভিজিএফ চাল জব্দ, কার্ড বিক্রির অভিযোগ

নান্দাইলে ভিজিএফ প্রকল্পের চাল জব্দ: উপকারভোগীর কার্ড বিক্রি ও দোকানে মজুদের অভিযোগ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে বিতরণের প্রায় দুই হাজার কেজি চাল জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিকটবর্তী খামারগাঁও বাজারের একটি দোকান থেকে এই চাল উদ্ধার করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন আহম্মদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জব্দকৃত চাল থানায় পাঠানো হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

চাল বিতরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত দুইদিন ধরে চন্ডীপাশা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে দুঃস্থ, অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ প্রকল্পের চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। তবে রোববার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার সালাউদ্দিন আহম্মদ খামারগাঁও বাজারে গিয়ে বকুল মিয়া ও মতি মিয়ার দোকান থেকে প্রায় ৩৪টি বস্তায় ভরা মোট দুই হাজার কেজি চাল উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময় চালগুলো সাধারণ বস্তায় রাখা ছিল, যা প্রকল্পের নিয়মবহির্ভূত বলে দাবি করা হচ্ছে।

উপকারভোগীদের কার্ড বিক্রি ও দোকানদারদের মজুদের কাহিনী

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় চারজন বাসিন্দা জানান, ভিজিএফ প্রকল্পের উপকারভোগীরা তাদের কার্ডগুলো ওই দোকান মালিকদের কাছে কম দামে বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে দোকানদাররা সেই কার্ড দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করে দোকানে নিয়ে সাধারণ বস্তায় ভরে মজুদ করে রাখছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় দুঃস্থ পরিবারগুলোর সহায়তা প্রকল্পের সুবিধা বাণিজ্যিকভাবে অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

দোকানদার বকুল মিয়া তার বক্তব্যে দাবি করেন, তিনি সম্প্রতি বিদেশ থেকে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেছেন এবং তার ছোট ছেলে অন্যদের দেখাদেখি কিছু চাল কিনেছে। তিনি বলেন, "গ্রামের অনেক কার্ডধারী এসব চাল উত্তোলন করার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি করে দেন। ওনারা বিক্রি করেছেন বলেই আমাদের লোকজন চাল ক্রয় করেছে। এতে আমাদের ছেলের অপরাধ কি?" তবে তার এই দাবি প্রশাসনের তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের বক্তব্য

চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন ভুইয়া বলেন, "উপকারভোগীরা পরিষদ থেকে চাল সংগ্রহ করে নিয়ে কী করেছেন তা আমার জানার কথা নয়। আমাদের এখানে চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি।" অন্যদিকে, সহকারী কমিশনার সালাউদ্দিন আহম্মদ স্পষ্ট করে জানান, চালগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভিজিএফ প্রকল্পের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি চলবে।

এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ভিজিএফ প্রকল্পের তদারকি ও বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, দুঃস্থ পরিবারগুলোর কাছে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন। প্রশাসনের জব্দকৃত চালের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার কেজি, যা প্রকল্পের অপব্যবহারের সম্ভাব্য масштаব নির্দেশ করে।