কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন ইউসুফ মোল্লা টিপু
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে। শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। টিপু নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা তার রাজনৈতিক জীবনে সততা ও ত্যাগের একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এক আদর্শবান ও সৎ রাজনীতিবিদের উত্থান
ইউসুফ মোল্লা টিপুর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ছাত্রদলের মাধ্যমে, এবং তিনি কখনোই আদর্শচ্যুত হননি। কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকার আব্দুল গফুর মোল্লার ছেলে টিপু শিক্ষাজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি তার গভীর আনুগত্য ছিল।
তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলো হলো:
- ২০০৩ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি কুমিল্লা শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
- ২০১২ সালে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
- পরবর্তীতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদ লাভ করেন।
- ২০২২ সালে তিনি কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
স্থানীয়দের দৃষ্টিতে একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা
স্থানীয়রা এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা টিপুকে একজন সৎ, আদর্শবান ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তারা জানান, ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত তিনি কোনো ধরনের অন্যায়-অনিয়ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হননি। জুলাই আন্দোলনের সময় রাজপথে মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার মতো বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছেন তিনি। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন, যা কুমিল্লা নগরীতে তার পরিচিতি গড়ে তুলেছে।
বিএনপি নেতাকর্মীরা মন্তব্য করেন, "ইউসুফ মোল্লা টিপু বিএনপির একজন আদর্শিক নেতা। এবার বিএনপি পরিচ্ছন্ন নেতার হাতে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, যা একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত।"
মানবিক কার্যক্রম ও সামাজিক সংগঠন
টিপুকে কুমিল্লায় একজন মানবিক রাজনৈতিক নেতা হিসেবে গণ্য করা হয়। করোনা মহামারীর সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি অসংখ্য মৃতদেহ দাফন করেছেন, যা তার সমাজসেবার প্রতিফলন। তার 'বিবেক' নামে একটি সামাজিক সংগঠন রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি বেশ কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন এবং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
কৃষিমন্ত্রীর প্রশংসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শনিবার কুমিল্লার একটি ইফতার মাহফিলে কৃষিমন্ত্রী হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেন, "আমরা গর্বিত ইউসুফ মোল্লা টিপুর মতো একজন সন্তান পেয়েছি। টিপু কুমিল্লার পরিচ্ছন্ন রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সততা এবং ত্যাগের মূল্যায়ন হিসাবে তাকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আমি বিশ্বাস করি কুমিল্লা নগরবাসী একজন ন্যায়পরায়ণ পরিচ্ছন্ন প্রশাসক পেয়েছে। এবার কুমিল্লার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে।"
নিয়োগ প্রাপ্তির পর ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, "সৃষ্টিকর্তার নিকট শুকরিয়া আদায় করছি। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি দুর্নীতিমুক্ত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন বিনির্মাণে কাজ করব। কুমিল্লাকে নগরবাসীর কাঙ্ক্ষিত শহরে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করব।"
এই নিয়োগ কুমিল্লার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে সততা ও উন্নয়ন মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।
