যুগান্তরের প্রতিবেদনের পর তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান
চরফ্যাশন, ভোলা থেকে প্রতিবেদন: দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত একটি সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গত ১১ মার্চ 'চরফ্যাশনে বাবুরহাট লঞ্চঘাটে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে বাবুরহাট লঞ্চঘাট ও বকশী লঞ্চঘাট এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব ও ফলাফল
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এমাদুল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এমাদুল হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হলেও সেখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো ড্রেজার পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে কিছু ব্যক্তি রাত ও ভোরের সময়ে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করে থাকে।
বৈধ ও অবৈধ উত্তোলনের পার্থক্য
এমাদুল হোসেন আরও উল্লেখ করেন, নিকটবর্তী শিকদারের চর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নিলামকৃত বালু বিক্রি ও পরিবহণ করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ আইনত বৈধ। তিনি স্থানীয়দের ভবিষ্যতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বালু ব্যবসায়ীদের বালু ক্রয়ের বৈধ রশিদ সংরক্ষণে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও পূর্বের অভিযোগ
অভিযানে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ সহযোগিতা করে। উল্লেখ্য, এর আগে বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ফলে নদী তলদেশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং নদী রক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নজরুলনগর ও মুজিবনগর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ নদী ভাঙনের আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করছেন যাতে পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ করা যায়।



