মেঘনার ভাঙন রোধে ৩৭ কিলোমিটার বাঁধ পরিদর্শনে পানিসম্পদ মন্ত্রী ও হুইপ
লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর ও রামগতি উপজেলাকে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে নির্মাণাধীন ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তীর রক্ষা বাঁধের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে তিনি কমলনগর উপজেলার ফলকন ইউনিয়নের মাতাব্বরহাট এলাকায় পৌঁছান এবং বাঁধ নির্মাণের ভৌত অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেন।
উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. সাহাদাত হোসেন সেলিম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান হাছিব, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফের) সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক এম. দিদার হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মন্ত্রীর জোরালো নির্দেশনা ও প্রতিশ্রুতি
পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের বলেন, "মেঘনার ভাঙন থেকে এই অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকারমূলক কাজ। আগামী বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই বাঁধের কাজ যাতে দৃশ্যমান হয় এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে পারে, সে লক্ষ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শেষ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কাজের গুণমান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
হুইপের আশ্বাস ও রাজনৈতিক সমর্থন
এ সময় হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, "বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জনদাবি বাস্তবায়নে আমরা সম্পূর্ণরূপে বদ্ধপরিকর।" তার এই বক্তব্য স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে।
দিনব্যাপী পরিদর্শন ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি দিনব্যাপী রামগতি ও কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন ভাঙনপ্রবণ এলাকা এবং বাঁধের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো পরিদর্শন করবেন। মন্ত্রীর এই আকস্মিক ও ব্যাপক পরিদর্শনে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা মনে করছেন যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে।
এই বাঁধ প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে লক্ষ্মীপুরের দুটি উপজেলার হাজার হাজার মানুষ মেঘনা নদীর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষি জমি ও বসতভিটার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। সরকারের এই পদক্ষেপকে স্থানীয়রা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
