মঠবাড়িয়ায় জেলেদের ভিজিএফ চাল বিতরণে ১০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ, উত্তেজনা
মঠবাড়িয়ায় জেলেদের চাল বিতরণে ১০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ

মঠবাড়িয়ায় জেলেদের চাল বিতরণে ১০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ, উত্তেজনা সৃষ্টি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে জনপ্রতি ১০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় জেলেরা বিক্ষোভ করেছেন এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

চাল বিতরণ কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য

২০২৫-২৬ অর্থবছরে নদীতে জাটকা আহরণে বিরত থাকা জেলে পরিবারের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৬৬০ জন জেলেকে ৮০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা ছিল। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা ও আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক মো. তরিকুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

টাকা আদায়ের অভিযোগ ও উত্তেজনা

চাল বিতরণের প্রক্রিয়া চলাকালে জেলেদের কাছ থেকে মাথাপিছু ১০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠলে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব তাহসিন জামান রুমেল ঘটনাস্থলে এসে জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ জানান। তার হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং কোনো টাকা আদায় ছাড়াই জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ শুরু করা সম্ভব হয়।

জেলেদের বক্তব্য ও অভিযোগ

স্থানীয় উপকারভোগী জেলে শহীদ হাওলাদার সরাসরি অভিযোগ করেন যে, চাল নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন প্রত্যেক জেলেকে ১০০ টাকা করে দিতে হবে। একই ধরনের অভিযোগ করেন আরেক জেলে গফফর হোসেন। তিনি বলেন, টাকা না দিলে ৮০ কেজির বদলে মাত্র ৭০ কেজি চাল দেওয়া হবে বলে তাকে জানানো হয়েছিল।

প্রশাসনের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা

মঠবাড়িয়া উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম হাওলাদার বলেন, বিগত দিনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তার পরিষদের মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ বছর নতুন প্রশাসকের মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান যে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে জেলেদের ৮০ কেজি করে চাল বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা ও আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন প্রশাসক মো. তরিকুল ইসলাম টাকা আদায়ের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, "আমরা প্রাথমিকভাবে পরিবহন খরচ বাবদ ১০০ টাকা করে নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে জেলেরা প্রতিবাদ জানালে আমরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ীই চাল বিতরণ করা হবে।"

চাল বিতরণ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব

এই চাল বিতরণ কর্মসূচিটি জেলে পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যারা নদীতে জাটকা আহরণে বিরত থেকে পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছেন। সরকারি সহায়তা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব।

ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে। জেলেদের প্রতিবাদ ও স্থানীয় নেতার হস্তক্ষেপের ফলে টাকা আদায় বন্ধ হয়ে চাল বিতরণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।