পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে এক কোটি টাকার জিও ব্যাগ লুটের অভূতপূর্ব ঘটনা
পদ্মা বাঁধ প্রকল্পে জিও ব্যাগ লুট, ক্ষতি এক কোটি টাকা

পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে এক কোটি টাকার জিও ব্যাগ লুট

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় চলমান পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রকল্পের জন্য রাখা বালুভর্তি জিও ব্যাগ লুট হয়ে গেছে, যাতে প্রায় এক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) শরীয়তপুর কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা, উত্তর তারাবনিয়া, দক্ষিণ তারাবনিয়া, কাচিকাটা ও চরসেনসান ইউনিয়নের পাশ দিয়ে পদ্মা নদী প্রবাহিত হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে এসব এলাকায় নদী ভাঙনের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নদীর দক্ষিণ তীর রক্ষার জন্য একটি বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে।

প্রকল্পের আওতায় ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালে ৩০টি প্যাকেজে ঠিকাদার নিয়োগ দেয় পাউবো। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭০ কোটি টাকা। বর্তমানে বিভিন্ন প্যাকেজের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

জিও ব্যাগ লুটের ঘটনা

চরভাগা ইউনিয়নের মনাই হাওলাদারকান্দি এলাকায় ২২ নম্বর প্যাকেজের অধীনে ২২০ মিটার অংশে কাজ করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ। তারা ঈগল রিচ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন বিডি লিমিটেডকে সাবঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করছে।

এই অংশে ব্যবহারের জন্য ৭৮ হাজার ৯৫৩টি বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯০৯টি সিসি ব্লক নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু গত ৬ ও ৭ মার্চ কয়েক শ মানুষ প্রকল্প এলাকায় জমা রাখা জিও ব্যাগ থেকে বালু ফেলে দিয়ে ব্যাগগুলো নিয়ে যায়। মাত্র দুই দিনে মোট ১৩ হাজার ৫৪৬টি জিও ব্যাগ লুট হয়ে যায়।

প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা

জিও ব্যাগ লুটের ঘটনা ঠেকাতে পাউবো এলাকায় মাইকিং করে সতর্কতা জারি করেছে। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা ৭ মার্চ ভেদরগঞ্জের সখিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

সাবঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঈগল রিচ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন বিডি লিমিটেডের প্রকল্প প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্প এলাকায় রাখা বালুভর্তি জিও ব্যাগ কিছু মানুষ নিয়ে গেছে। কেন তারা এমন কাজ করেছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। এতে আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

পাউবোর শরীয়তপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘চাকরিজীবনে এমন ঘটনা আমি দেখিনি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আমরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।’

প্রকল্পের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ

পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পটি স্থানীয় জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নদী ভাঙন রোধ করে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি রক্ষা করবে। তবে এই লুটের ঘটনা প্রকল্পের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। পাউবো ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন নিরাপত্তা জোরদার করে প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে।

এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুততম সময়ে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং প্রকল্পের কাজ পুনরায় গতিশীল হবে।