জামালপুরে ভিজিএফ কার্ড না দেওয়ায় প্যানেল চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগ
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় একটি ঘটনা সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভিজিএফ কার্ড না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক প্যানেল চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ৩টার দিকে বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে সংঘটিত হয়।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী মির্জা সোহেল বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উপজেলার মির্জা বাড়ি এলাকার মরহুম মির্জা সাখওয়াত হোসেনের ছেলে। প্যানেল চেয়ারম্যান মির্জা সোহেলের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত আশিকুর রহমান তোলন, যিনি বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক, দুপুরে ফোন করে তাকে উপজেলা পরিষদে ডেকে নেন। সেখানে গিয়ে আশিকুর রহমান তোলন কয়েকটি ভিজিএফ কার্ড চান।
মির্জা সোহেল কার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানালে তোলন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে মারধর করেন। এই ঘটনার পর প্যানেল চেয়ারম্যান বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন এবং শিগগিরই আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এখনো চাল বিতরণ শুরু হয়নি, কার্ড তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যেই ব্যক্তিগতভাবে কার্ড চাওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
অভিযুক্ত আশিকুর রহমান তোলন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, মূলত একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ঝামেলা থেকে কথা কাটাকাটি হয়। এর বেশি কিছু হয়নি।’ তবে প্যানেল চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বিষয়টি তিনি প্যানেল চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছেন।
জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুরুল মোমেন আকন্দ কাউসার জানান, বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। তিনি বলেন, কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ জানালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, উপজেলা বিএনপিকে ২০ শতাংশ কার্ড দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দলীয়ভাবে কিছু তালিকা দেওয়ার কথা শোনা গেছে, যাতে যাচাই-বাছাই করে কার্ড দেওয়া যায়।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে জানতে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাইকে ফোন করা হলে তিনি নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা বলে কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং এখনো বিস্তারিত তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
এই ঘটনা সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচার কামনা করছেন।
