নবগঙ্গা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই লাখ টাকা জরিমানা
নবগঙ্গা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, দুই লাখ টাকা জরিমানা

নবগঙ্গা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই লাখ টাকা জরিমানা

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় নবগঙ্গা নদীতে ইজারাবহির্ভূত জায়গা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বড়কালিয়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবণী বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন একটি দল। অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়েন অভিযুক্ত ব্যক্তি আজিজুল হক, যিনি সাইট পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কালিয়া উপজেলার বৃ-হাচলা এলাকায় নবগঙ্গা নদীতে একটি বালুমহাল সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছিল যে ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠান ইতি এন্টারপ্রাইজ ইজারাকৃত মৌজা থেকে বালু উত্তোলন না করে মাঝেমধ্যে অন্য স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল দুপুরে সহকারী কমিশনার শ্রাবণী বিশ্বাসের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চারটি মেশিন চলতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ওই মেশিনগুলো বন্ধ করা হয়। সেই সঙ্গে সাইট পরিদর্শক আজিজুল হককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্তের পরিচয় ও প্রতিক্রিয়া

অভিযুক্ত ব্যক্তি আজিজুল হক (৫৪) মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কাজির পাগলা গ্রামের মো. আইজউদ্দীনের ছেলে। তিনি নড়াইলের কালিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রমের কার্যস্থল ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সহকারী কমিশনার শ্রাবণী বিশ্বাস বলেন, "অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন ইজারাবহির্ভূত জায়গা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া গেছে। এই সময় সাইট পরিদর্শককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করে তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মুচলেকা দিয়েছে যে ভবিষ্যতে আর কখনো ইজারাকৃত জায়গার বাইরে থেকে বালু উত্তোলন করা হবে না। এই পদক্ষেপ পরিবেশ সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অভিযানের তাৎপর্য ও প্রভাব

এই অভিযান নদী ও পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নবগঙ্গা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন দীর্ঘদিন ধরে একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত ছিল, যা নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ ও পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান অবৈধ কার্যক্রম রোধে দৃঢ় সংকল্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • অভিযানে চারটি অবৈধ মেশিন বন্ধ করা হয়েছে।
  • সাইট পরিদর্শককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
  • অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মুচলেকা দিয়েছে ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতে এমন অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হবে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নদী ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো হবে।