মেট্রোরেলে আসন দখল ঠেকাতে ডিএমটিসিএল'র নতুন নিয়ম, 'লুপ রাইডিং' বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ
মেট্রোরেলে আসন দখল ঠেকাতে ডিএমটিসিএল'র নতুন নিয়ম

মেট্রোরেলে আসন দখল ঠেকাতে ডিএমটিসিএল'র নতুন নিয়ম চালু

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) মেট্রোরেলে আসন দখল করে রাখার অভিযোগ রোধ করতে কঠোর নতুন নিয়ম প্রবর্তন করেছে। বিশেষ করে 'লুপ রাইডিং' নামে পরিচিত প্রবণতা—যেখানে যাত্রীরা এক বা দুই স্টেশন আগে উঠে সিট দখল করে রাখেন—বন্ধ করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মতিঝিল স্টেশনে পরিবর্তন ও ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধি

মেট্রোরেলের অপারেশন প্রধান মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যাত্রীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মতিঝিল স্টেশনে ট্রেন পরিচালনার পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে একটি ট্রেন মতিঝিল স্টেশনে এসে প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করে আবার ছেড়ে যেত, কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা এখন মতিঝিল থেকেই সরাসরি নতুন ট্রেনে উঠতে পারবেন, যা আগের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক।

নজরুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, কোনো যাত্রী মতিঝিল স্টেশনে পৌঁছানোর পর একই ট্রেনে বসে থেকে ফিরতি যাত্রা করতে পারবেন না। তাকে অবশ্যই ট্রেন থেকে নেমে অন্য প্ল্যাটফর্মে গিয়ে নতুন ট্রেনে উঠতে হবে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো আসন দখলের অপপ্রয়াস রোধ করা এবং সকল যাত্রীর জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা।

চেকইন-চেকআউট সময়সীমা হ্রাস ও জরিমানা

এ ছাড়া, মেট্রোর প্ল্যাটফর্ম বা ট্রেনের ভেতর অযথা অবস্থান ঠেকাতে চেকইন ও চেকআউটের মধ্যবর্তী সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে। নজরুল ইসলাম সতর্ক করে দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সময়ের বেশি কেউ প্ল্যাটফর্ম বা মেট্রোরেল সিস্টেমের ভেতরে অবস্থান করলে তাকে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। এই নিয়মটি যাত্রীদের দ্রুত চলাচলকে উৎসাহিত করবে এবং অবৈধ কার্যকলাপ হ্রাস করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যাত্রীদের অভিযোগ ও সমাধান

যাত্রীদের পক্ষ থেকে আগে অভিযোগ উঠেছিল যে, উত্তরা থেকে ছেড়ে আসা মতিঝিলগামী ট্রেনে কিছু যাত্রী আগেই উঠে পড়েন এবং মতিঝিলে নেমে না গিয়ে একই ট্রেনে বসে থাকেন। পরে ট্রেনটি আবার উত্তরার দিকে ফিরলে তারা একই সিটে বসে যাত্রা চালিয়ে যান। এই 'লুপ রাইডিং' পদ্ধতির কারণে সচিবালয় বা শাহবাগের মতো মাঝের স্টেশন থেকে ওঠা যাত্রীরা প্রায়ই আসন পান না, যা তাদের জন্য অসুবিধার সৃষ্টি করে।

নতুন নিয়মগুলো এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনবে বলে ডিএমটিসিএল আশাবাদী। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনগুলো মেট্রোরেলের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং যাত্রীদের মধ্যে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করবে। ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।