সিদ্ধিরগঞ্জে নির্ধারিত সময়ে অফিসে অনুপস্থিতির কারণে তিন কর্মকর্তাকে বদলি
সরকারি নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভূমি প্রতিমন্ত্রী আকস্মিকভাবে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে আসেন। অফিসটি তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকায় তিনি কর্মকর্তাদের জন্য বারান্দায় বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু সকাল নয়টা থেকে পৌনে দশটা পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা অফিসে উপস্থিত হননি, যা প্রতিমন্ত্রীর জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
সকাল সাড়ে নয়টার দিকে অফিস সহকারী জান্নাতি বেগম অফিসের তালা খুলে দেন। এরপর পৌনে দশটায় তহসিলদার মো. নাছির উদ্দিন এবং সহকারী নায়েব ওমর ফারুক অফিসে পৌঁছান। তাদের এই বিলম্বিত উপস্থিতি সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দিকে পরিচালিত করে।
বদলি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে অফিসে অনুপস্থিতির কারণে তিনজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তহসিলদার নাছির উদ্দিনকে আড়াইহাজারের নদী পরিবেষ্টিত কালাপাহাড়িয়া ভূমি অফিসে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সহকারী নায়েব ওমর ফারুককে খাককান্দা ভূমি অফিসে এবং অফিস সহকারী জান্নাতি বেগমকে বন্দরের কুড়িপাড়া ভূমি অফিসে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়াও, তাদের তিনজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই মামলা দায়েরের মাধ্যমে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তাদের সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করেছে। সরকারি অফিসে সময়মতো উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি পেতে পারে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ এই বিষয়টির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা অন্যান্য অফিসের কর্মকর্তাদের জন্য একটি উদাহরণ তৈরি করতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন কোনো অবহেলা বা শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা ঘটলে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই পদক্ষেপ সরকারি সেবার মানোন্নয়ন ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
