ঈদযাত্রায় ২০৭টি স্থানে যানজটের আশঙ্কা, চাঁদাবাজি নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য
আসন্ন ঈদযাত্রায় সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে ২০৭টি স্থানে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ এই সম্ভাব্য যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করেছে, যা গত ঈদের তুলনায় ৪৮টি বেশি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বৈঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
যানজটপ্রবণ এলাকার বিস্তারিত
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে যানজট হতে পারে এমন ২০৭টি স্থানের মধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪টি, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ৫৫টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২১টি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩টি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৫টি, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে ৯টি, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪টি এবং যশোর-খুলনা মহাসড়কে ৬টি স্থান রয়েছে। গত ঈদুল ফিতরে যানজটপ্রবণ এলাকার সংখ্যা ছিল ১৫৯টি।
চাঁদাবাজি নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম চাঁদাবাজি নিয়ে বলেন, "ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই।" তবে তিনি উল্লেখ করেন, নিবন্ধিত ও বৈধ মালিক বা শ্রমিক সমিতি যদি তাদের কল্যাণ তহবিলের জন্য নির্ধারিত অর্থ সংগ্রহ করে, সেটিকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না। মন্ত্রী আরও বলেন, অবৈধভাবে অর্থ আদায় করলে তা চাঁদাবাজি হিসেবে গণ্য হবে এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া দ্বিগুণ হওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি রুট পারমিট বাতিল করা হতে পারে। তিনি জানান, ঈদের আগে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ঢাকার পাঁচটি টার্মিনালে সিসিটিভি নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা।
- পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং কর্ণফুলী টানেলে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ের ব্যবস্থা চালু রাখা।
- ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখা।
- যাত্রী পারাপারে পর্যাপ্ত ফেরি ও লঞ্চের ব্যবস্থা করা।
অতিরিক্ত প্রস্তুতি ও সমন্বয়
মন্ত্রী আরও জানান, পোশাক কারখানাগুলো ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়। বিআরটিসির অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মহাসড়কে অস্থায়ী দোকান, অবৈধ পার্কিং ও ব্যাটারিচালিত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং চলাচলের অনুপযোগী যানবাহন সড়কে নামতে দেওয়া হবে না।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উপস্থিত ছিলেন রেল ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
