টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর উপজেলা ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে।
সড়ক অবরোধ ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিক্ষোভকারীরা বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস ঘেরাও করে এবং বিদ্যুতের ডিজিএম বরাবর স্মারকলিপি দেন। এ সময় উপজেলা জামায়াতের সহ-সভাপতি ওয়াজ উদ্দিন, জামায়াত ইসলামীর যুগ্ম সম্পাদক আবু আলমাছ মিয়া, এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনির, স্থানীয় জামায়াত নেতা আবুল কাশেমসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিলের প্রতিবাদ
কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত ইসলামীর যুগ্ম সম্পাদক আবু আলমাছ মিয়া বলেন, “লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনো অবস্থায় মেনে নেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (স্মারকলিপির পর) বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।” তিনি আরও জানান, ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেই এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি
টাঙ্গাইল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল গ্রিডের অধীনে মির্জাপুর গ্রিডে বিদ্যুৎ চাহিদা ৮০-৯০ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫-২৫ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা পূরণ করতে প্রতিদিন এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন বিপর্যয়
ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলে ছোট, বড় ও মাঝারি মিলে শতাধিক মিল-কারখানায় উৎপাদনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। গোড়াই এলাকার বিভিন্ন শিল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিলে উৎপাদন না থাকায় দেশি-বিদেশি বায়ারদের অর্ডার বাতিল হচ্ছে, ফলে বিপুল অংকের টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এলাকার ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনরাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ মিলছে না।
পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য
টাঙ্গাইল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মোকলেছুর রহমান ও খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, বুধবার ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা অফিসে এসে স্মারকলিপি দিয়েছেন। মির্জাপুর উপজেলায় দুটি জোনাল অফিসের অধীনে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার। বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা, সে তুলনায় ময়মনসিংহ জোন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় শিল্পাঞ্চল থাকায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। বিদ্যুতের লোড বাড়ানোর জন্য বিষয়টি সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এমপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পুলিশের বিবৃতি
মির্জাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা ও পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস ঘেরাও করেন। মহাসড়কের অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
পূর্ববর্তী ঘটনা
উল্লেখ্য, গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জামুর্কি, মহেড়া, বানাইল, আনাইতারা ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা দেলদুয়ার ও বাসাইল উপজেলার কয়েক শতাধিক পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকসহ শিক্ষার্থীরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে জামুর্কি এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে। মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি জামুর্কি পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশন ও অফিস ঘেরাও করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় বিক্ষুব্ধরা। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।



