টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলার আংশিক অংশের সব ঝর্ণায় দর্শনার্থীদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত এই নির্দেশনা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঝর্ণায় নিষেধাজ্ঞার কারণ
ভারি বর্ষণের সময় এসব ঝর্ণায় অতিবৃষ্টির কারণে উপচেপড়া স্রোতে দর্শনীয় মোহ সৃষ্টি হলেও তাতে রয়েছে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা। বিশেষ করে ঝর্ণার কূপে তলিয়ে যাওয়া, স্লিপ করে অনেক নিচে পড়ে যাওয়া এবং যাওয়া-আসার পথে ভরা ছড়ায় স্রোতের তোপে পড়ে ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কোন কোন ঝর্ণায় নিষেধাজ্ঞা
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মীরসরাই উপজেলার বোয়ালীয়া, খৈয়াছরা, রুপসী, নাপিত্তাছরা ঝর্ণা এবং সীতাকুণ্ড অংশের সহস্রধারা, সুপ্তধারা ও ছোটদারোগারগাটসহ ৬টি ইজারা দেওয়া ঝর্ণায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বনবিভাগের বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন বলেন, "আবহাওয়া সূত্রে জানা গেছে, এবারের ভারি বর্ষণকালে আমাদের এসব এলাকায় পাহাড় ধসসহ অতি প্লাবনে দর্শনার্থীদের জন্য অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ উদ্ভব হতে পারে। এ সময়ে কোনো দর্শনার্থী অতি উৎসাহী হলে তাদের প্রাণহানির গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে। তাই বন বিভাগ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে ঝর্ণায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "উক্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বনকর্মী ও ইজারাদারদের সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই সবাইকে এ বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।"
মীরসরাইয়ে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে তিন দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে রোপা আউশ। অনেক গ্রাম জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়ে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫ শতাধিক বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা যাতায়াত দুরূহ হয়ে পড়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পর্যন্ত টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকেছে। বিশেষ করে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দিনভর ভারি বর্ষণে ফসলের মাঠগুলোতে পানি থৈ থৈ করছে, ফলে প্লাবিত হয়েছে রোপা আমন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য
উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, "আমাদের এলাকায় প্যারাগন ফিডমিলের কারণে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি যেতে পারছে না। এতে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। মূলত এই দুটি ফ্যাক্টরির কারণে শত শত মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।"
মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম রুবেল বলেন, "আমাদের যাতায়াতের রাস্তাটি এমনিতেই ভাঙা। এবার টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলে একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।"
কৃষি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, "টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে আউশের চারা কিছু ডুবে গেছে। আমরা মাঠে রয়েছি। এখনো কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ সম্ভব হয়নি।"
মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, "টানা বৃষ্টিতে উপজেলার কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে একাধিক এলাকা পরিদর্শন করেছি। আশা করছি বৃষ্টি বন্ধ হলে পানি নেমে যাবে।" তিনি আরও বলেন, "কেউ যদি জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে থাকে, আমাদের তালিকা পাঠালে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।"



