বরিশালে ব্যস্ত অফিস, বসবাসের ঘর কিংবা চেম্বার—এসব স্থান থেকে একের পর এক সাপ উদ্ধারের ঘটনায় নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত দুটি ঘটনায় পাঁচটি সাপ উদ্ধার করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভয়েস ফর ভয়েসলেস টিম।
আতঙ্ক নয়, সতর্কতা
নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও বিষয়টিতে আতঙ্কের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। প্রজনন মৌসুমে এমন ঘটনা ঘটতে পারে উল্লেখ করে তারা বলেছেন, উদ্ধার হওয়া প্রায় সবগুলোই কাল-নাগিনী প্রজাতির সাপ, যা মানুষের জন্য তেমন ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
ঘটনার বিবরণ
গত ৮ জুন রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মো. শাহজাহানের অফিস কক্ষের সিলিংয়ের ওপর কিছু নড়াচড়া টের পেয়ে সংশ্লিষ্টদের খবর দেওয়া হয়। পরে ভয়েস ফর ভয়েসলেস সংগঠনের সভাপতি ইয়াসিন এম তানভীর ও পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা সেখানে গিয়ে দুটি সাপ উদ্ধার করেন। ঠিক পরের দিন একই দপ্তর থেকে আরও এক জোড়া কাল-নাগিনী উদ্ধার করা হয়।
এরপর ১৪ জুন নগরীর সাগরদী এলাকায় একটি চেম্বার থেকে আরও একটি সাপ উদ্ধার করা হয়।
সাপের প্রজাতি
উদ্ধার হওয়া সাপগুলোর প্রজাতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলো কলুব্রিড (Colubrid) জাতীয় সাপ। স্থানীয়ভাবে এ প্রজাতি কাল-নাগ, কাল-নাগিনী, উড়ন্ত সাপ, উড়াল মহারাজ, সুন্দরী সাপ ও কালসাপ নামেও পরিচিত। এদের বিষ খুবই মৃদু এবং মানুষের শরীরে সাধারণত উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব ফেলে না।
বিশেষজ্ঞের মতামত
ভয়েস ফর ভয়েসলেস সংগঠনের পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা বলেন, ‘এই সাপগুলো নির্বিষ ও লাজুক প্রকৃতির। তারা কারও কোনো ক্ষতি করে না। ভয় না পেয়ে সাপকে তার মতো যেতে দিন। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সাপ সংরক্ষণ করাও আমাদের দায়িত্ব।’
এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি বরিশালে কয়েকটি সাপ উদ্ধারের ঘটনা আমাদের নজরে এসেছে। উদ্ধার করা সাপগুলো নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে।’



